ভোটের আগেই তৃণমূলের ৮০০ নেতার তালিকা! গ্রেফতারি রুখতে হাইকোর্টে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বৃহস্পতিবার বাংলার হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচন। ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে রাজ্য রাজনীতিতে কার্যত ভূমিকম্প। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ৮০০ জন নেতা ও কর্মীকে গ্রেফতার করা হতে পারে— এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল সাংসদ ও বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায় দাসের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি শুরু হয়েছে।

আদালতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ভোটের সময় অশান্তি ছড়ানোর অজুহাতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন বেছে বেছে তৃণমূলের সক্রিয় নেতা-কর্মীদের তালিকা তৈরি করেছে। এই তালিকায় রয়েছেন বিদায়ী বিধায়ক পরেশ পাল, উদয়ন গুহ, রত্না চট্টোপাধ্যায়, পরেশচন্দ্র অধিকারী এবং আব্দুল রহিম বক্সীর মতো হেভিওয়েটরা। এমনকি কাজল শেখ এবং সুপ্রকাশ গিরির নামও ওই তালিকায় রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তৃণমূলের তরফে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভোটের দিন যাতে এই নেতারা বুথে বা এলাকায় সক্রিয় থাকতে না পারেন, সেই লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই গ্রেফতারির ছক কষা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ইস্যুতে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিয়েছেন। নির্বাচনী জনসভা থেকে তিনি তোপ দেগে বলেন, “তৃণমূল কর্মীদের গাঁজা কেস দিয়ে ফাঁসানোর লিস্ট তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে চলছেন।” পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “গুন্ডামি করে ভোট জেতার দিন শেষ। সময় থাকতে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করুন, নাহলে বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।”

এদিকে, নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। প্রথম দফার ভোটের আগে রবিবার রাতে কোচবিহার, মালদা, মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে ১৩৫ জন ‘দাগি’ অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, অতীতের রেকর্ডের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং আরও গ্রেফতারির সম্ভাবনা রয়েছে। হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে এই গ্রেফতারি প্রক্রিয়া থামে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy