রণক্ষেত্রে একটিও মিসাইল বা গুলি খরচ করতে হয়নি, তবুও ইরান-মার্কিন সংঘাতের আবহে নিঃশব্দে বাজিমাত করে দিল চীন। যখন পশ্চিমী দুনিয়া মধ্যপ্রাচ্যের সমরকৌশল নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখনই বেইজিং নিজের প্রভাব বিস্তার করছে এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত। সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিয়েও চীন কীভাবে ৫টি বড় সুবিধা পকেটে পুড়ল, তা নিয়ে তোলপাড় বিশ্ব রাজনীতি।
১. মার্কিন সামরিক কৌশলের ‘লাইভ’ স্টাডি: এই সংঘাতের মাধ্যমে আমেরিকার আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র এবং ড্রোন প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা ও শক্তি— দুই-ই খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেয়েছে চীন। তাইওয়ানের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে ভবিষ্যতে আমেরিকার মোকাবিলা করতে এই অভিজ্ঞতা চীনের জন্য অমূল্য গবেষণাগার হিসেবে কাজ করছে।
২. জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য শক্তির একচ্ছত্র আধিপত্য: ইরান থেকে সুলভ মূল্যে তেল আমদানির পথ যেমন পরিষ্কার হয়েছে, তেমনি এই অস্থিরতার সুযোগে চীন বিশ্বের লিথিয়াম ও সৌরশক্তি বাজারে নিজের আধিপত্য আরও পোক্ত করেছে। মধ্যপ্রাচ্য তেলের লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকার ফাঁকে চীন ভবিষ্যতের ‘সবুজ জ্বালানি’র নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নিয়েছে।
৩. কূটনীতিতে ‘শান্তিপ্রিয়’ ভাবমূর্তি: যখন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘যুদ্ধবাজ’ হিসেবে চিত্রিত করা হচ্ছে, তখন চীন নিজেকে একজন নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। ইরান-সৌদি আরবের ঐতিহাসিক সমঝোতার পর এই সংঘাতেও চীনের নীরব অথচ প্রভাবশালী ভূমিকা গ্লোবাল সাউথ-এ তাদের গ্রহণযোগ্যতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
৪. এআই (AI) ও সাইবার যুদ্ধের পরীক্ষা: এই আধুনিক ছায়াযুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে চীন অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে এআই-এর প্রয়োগ কীভাবে শত্রু পক্ষকে বিভ্রান্ত করতে পারে, তার বাস্তব চিত্র এখন চীনের হাতের মুঠোয়।
৫. দুর্লভ খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার কবজায়: ইরান ও তার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ‘রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস’ বা দুর্লভ খনিজ সম্পদের খনিগুলোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ মজবুত করেছে বেইজিং। যা ছাড়া আধুনিক স্মার্টফোন থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি তৈরি করা অসম্ভব।
উপসংহার: ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “আমেরিকা যখন যুদ্ধে জেতার চেষ্টা করছে, চীন তখন যুদ্ধের পরের বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি সেরে ফেলছে।” কোনো রক্তপাত ছাড়াই এই কৌশলী জয় বেইজিংকে একবিংশ শতাব্দীর সুপারপাওয়ার হওয়ার দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে দিল।





