“এসপিজি-কে দিয়ে ঝালমুড়ি বানাচ্ছেন? একটু মাছ-ভাত খেয়ে দেখুন না!”—বীরভূমে মোদীকে কড়া চ্যালেঞ্জ মমতার!

বীরভূমের নির্বাচনী জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি ‘খাদ্য-যুদ্ধে’র চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়ার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর, সোমবার বীরভূম থেকে তার ব্যবচ্ছেদ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। মমতার দাবি, ওই ঝালমুড়ি খাওয়া ছিল নেহাতই একটি ‘সাজানো নাটক’।

ক্যামেরা ও এসপিজি-র ঝালমুড়ি! বীরভূমের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলছেন তিনি নাকি রাস্তায় দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খেয়েছেন। আরে আগে থেকেই দোকানে ক্যামেরা ফিট করা ছিল! দোকানের সাধারণ মানুষের হাত থেকে তো আর উনি খাননি, এসপিজি (SPG)-কে দিয়ে নিজের ঝালমুড়ি নিজে কাটিয়েছেন। ওটা ঝালমুড়ি খাওয়া নয়, ফটোশুট!”

মাছ খাওয়ার চ্যালেঞ্জ: এরপরই বাঙালির প্রিয় মাছ-ভাতের প্রসঙ্গ টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি মোদীকে কটাক্ষ করে বলেন, “খুব তো ঝালমুড়ি খাচ্ছেন, ক্ষমতা থাকলে একটু মাছ-ভাত খেয়ে দেখবেন নাকি? আপনাদের ওখানে তো মাছ-মাংস খাওয়ার অপরাধে মানুষকে পেটাচ্ছেন। বাংলায় আমরা সব খাই। আমাদের মাছের স্বাদ পেতে হলে সাহস লাগবে।”

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: বীরভূমের এই সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, বিজেপির ‘আমিষ বনাম নিরামিষ’ প্রচারের পাল্টায় তিনি ‘বাঙালি খাদ্যাভ্যাস’ ও ‘অস্মিতা’কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। ঝালমুড়ি খাওয়াকে ‘ফেব্রুকেটেড’ বা সাজানো বলে উল্লেখ করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর জনমোহিনী ভাবমূর্তিতে সরাসরি আঘাত হানতে চেয়েছেন।

আক্রমণে শান: মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও বলেন, “বিজেপি নেতারা এখানে পরিযায়ী পাখির মতো আসে। সোনার বাংলা গড়ার গল্প দেয়, আর দিল্লি ফিরে গিয়ে বাংলার টাকা আটকে দেয়। ঝালমুড়ি খেলে বাংলার মানুষের মন জেতা যায় না, তার জন্য বাংলার মানুষকে ভালোবাসতে হয়।”

ভোটের আবহে ঝালমুড়ি থেকে মাছ-ভাত—খাবারের এই দফারফি যে আগামী কয়েকদিন বঙ্গ রাজনীতির মূল মেনু হতে চলেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy