বঙ্গে প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র তিন দিন বাকি। ঠিক তার আগেই রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড়। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তত ৮০০ জন নেতা ও কর্মীকে নির্বাচন কমিশন (ECI) গ্রেফতার করতে পারে—এই আশঙ্কা প্রকাশ করে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলো রাজ্যের শাসক দল। শুধু মামলা দায়ের করাই নয়, আদালতের কাছে সম্ভাব্য ৮০০ জনের একটি নামের তালিকাও পেশ করেছে তৃণমূল।
মামলার প্রেক্ষাপট ও ভয়ংকর আশঙ্কা: তৃণমূলের আইনজীবী সূত্রে দাবি করা হয়েছে, প্রথম দফার ভোটের ঠিক আগে বেছে বেছে তৃণমূলের দক্ষ সংগঠকদের এলাকা ছাড়া করতে বা গারদে পুরতে চাইছে কমিশন। শাসক দলের অভিযোগ, কমিশন একটি বিশেষ তালিকা তৈরি করেছে যার ভিত্তিতে বিনা কারণে বা পুরনো মামলায় এই ৮০০ জনকে গ্রেফতার করা হতে পারে। এই তালিকায় একাধিক ‘হেভিওয়েট’ নেতার নাম রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
তালিকায় কারা আছেন? আদালতে জমা দেওয়া তালিকায় যাদের নাম থাকার জোরালো জল্পনা শোনা যাচ্ছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
উত্তরবঙ্গের প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রী উদয়ন গুহ।
কলকাতার বিধায়িকা রত্না চট্টোপাধ্যায়।
এছাড়া ‘সোনা পাপ্পু’-র মতো একাধিক জেলাস্তরের দাপুটে নেতা ও সক্রিয় সংগঠক।
হাইকোর্টের অবস্থান: তৃণমূলের এই আশঙ্কার কথা শুনে বিচারপতি মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন। সোমবারই এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তৃণমূলের দাবি, যদি এই ৮০০ নেতা-কর্মীকে ভোটের আগে গ্রেফতার করা হয়, তবে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ব্যাহত হবে এবং জনমতের প্রতিফলনে বাধা পড়বে।
কমিশনের পাল্টা যুক্তি: যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা (Non-Bailable Warrant) রয়েছে বা যারা এলাকায় অশান্তি পাকাতে পারে, কেবল তাদের বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।
ভোটের মাত্র ৭২ ঘণ্টা আগে এই ‘৮০০ জনের তালিকা’ এবং হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ কি নির্বাচনী লড়াইয়ের সমীকরণ বদলে দেবে? তৃণমূলের এই আইনি লড়াই কি গ্রেফতারি রুখতে সফল হবে? এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।





