বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক ৭২ ঘণ্টা আগে বড়সড় আইনি জটিলতায় টলিউড অভিনেত্রী তথা তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ নুসরত জাহান। রেশন দুর্নীতি মামলার সূত্র ধরে এবার গম পাচার কাণ্ডে তাঁকে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। তবে এবার আর কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্স নয়, নুসরতকে সোজা দিল্লিতে ইডির সদর দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
কেন এই তলব? তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, নুসরত জাহান যখন বসিরহাটের সাংসদ ছিলেন, সেই সময় তাঁর নির্বাচনী এলাকায় সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ গম ও রেশন সামগ্রী পাচারের অভিযোগ উঠেছিল। লকডাউনের সময় বিএসএফ (BSF) একাধিক গমের ট্রাক আটক করেছিল। এই পাচার চক্রের সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন বা প্রভাবশালী যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই নুসরতকে আগামী ২২ এপ্রিল দিল্লিতে তলব করা হয়েছে।
দিল্লিতে কেন হাজিরা? সূত্রের খবর, নুসরত জাহান বর্তমানে তাঁর পার্টনার যশ দাশগুপ্তের সঙ্গে দেশের বাইরে রয়েছেন। ইডি সূত্রে ইঙ্গিত, তাঁর গতিবিধি এবং আগের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের ভিত্তিতে এবার তাঁকে দিল্লিতে সদর দপ্তরে জেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলায় তাঁকে কলকাতায় দীর্ঘক্ষণ জেরা করেছিলেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
রাজনৈতিক মহলে শোরগোল: প্রথম দফার ভোটের ঠিক দু’দিন আগে এই তলবকে কেন্দ্র করে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি। তৃণমূলের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই ভোটের মুখে এজেন্সিকে ব্যবহার করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের পাল্টাচাল— “দুর্নীতি করলে কাউকেই ছাড়া হবে না, সে সাংসদ হোক বা তারকা।”
কী হতে পারে নুসরতের পরবর্তী পদক্ষেপ? নুসরত কি ব্যক্তিগত কারণে হাজিরা এড়াবেন নাকি সরাসরি দিল্লিতে গিয়ে ইডির মুখোমুখি হবেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। তবে রেশন দুর্নীতির জালে যেভাবে একের পর এক রাঘববোয়াল ধরা পড়ছে, তাতে নুসরত জাহানের নাম জড়িয়ে পড়া তাঁর কেরিয়ার ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





