রাজ্যে ফের শিক্ষক ও শিক্ষা সংক্রান্ত দুর্নীতির কালো ছায়া! তবে এবার দুর্নীতির অঙ্কটা আকাশছোঁয়া। ইডির (Enforcement Directorate) সাম্প্রতিক তল্লাশিতে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য— মাত্র ৪ মাসের ব্যবধানে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। সব মিলিয়ে ১১০০ কোটি টাকার এক বিশাল দুর্নীতির চক্র এখন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের স্ক্যানারে।
তদন্তে উঠে এল কী কী?
ইডির দাবি, এই বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে একটি নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এই চক্রের মূল পান্ডা হিসেবে যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই জয়ের সঙ্গে সরাসরি যোগ পাওয়া গেছে অন্তত ২৫টি ভুয়ো বা ‘শেল’ কোম্পানির। তদন্তকারীদের মতে:
এই ভুয়ো সংস্থাগুলি মূলত কালো টাকা সাদা করার ‘লন্ড্রি’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কালো টাকা এখানে বিনিয়োগ করা হয়েছিল।
মাত্র ১২০ দিনে ৫০০ কোটি টাকার রহস্যময় ট্রানজ্যাকশন হয়েছে, যার কোনো বৈধ উৎস নেই।
ধৃত জয়ের ভূমিকা
গ্রেফতার হওয়ার পর জয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্ষু চড়কগাছ গোয়েন্দাদের। জয় আসলে ছিল এই দুর্নীতির অন্যতম ‘লিঙ্ক-ম্যান’। প্রভাবশালী ব্যক্তি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তাদের মধ্যে সে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করত। তার নিয়ন্ত্রণে থাকা ২৫টি ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমেই কোটি কোটি টাকা হাতবদল করা হতো।
পরবর্তী পদক্ষেপ
ইডির আধিকারিকরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই ১১০০ কোটি টাকা শেষ পর্যন্ত কোথায় পৌঁছাল? এই চক্রের পেছনে কি কোনো হেভিওয়েট নেতা বা মন্ত্রীর হাত রয়েছে? ইতিমধ্যেই ধৃত জয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গোয়েন্দাদের ধারণা, আগামী কয়েক দিনে এই ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজনকে তলব বা গ্রেফতার করা হতে পারে।
রাজ্যে একের পর এক দুর্নীতির ঘটনায় যখন নাজেহাল সাধারণ মানুষ, তখন এই ১১০০ কোটির ‘শিক্ষা কেলেঙ্কারি’ নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করল।





