কর্পোরেট অফিসে এ কী নারকীয় কাণ্ড! ৮ মহিলা কর্মীর বিস্ফোরক বয়ান, টিসিএস-এ যৌন হেনস্থার চরম সীমা?

দেশের অন্যতম শীর্ষ তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-এর নাসিক শাখায় ঘটে যাওয়া শিউরে ওঠার মতো যৌন হেনস্থার ঘটনায় উত্তাল গোটা দেশ। তদন্তে নামতেই পুলিশের কাছে একের পর এক বিস্ফোরক বয়ান দিয়েছেন নির্যাতিতা নারী কর্মীরা। এক মহিলা কর্মীর বয়ান অনুযায়ী, কাজের মাঝেই তাঁর শাড়ি সরিয়ে গোপনাঙ্গে হাত দেওয়ার মতো জঘন্য কাজ করত অভিযুক্ত টিম লিডাররা। বাধা দিলে আসত কেরিয়ার শেষ করে দেওয়ার হুমকি।

নারকীয় অভিজ্ঞতার বর্ণনা পুলিশ সূত্রে খবর, নাসিকের এই বিপিও সেন্টারে অন্তত ৮ জন মহিলা কর্মী দীর্ঘ সময় ধরে যৌন হেনস্থা ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এক নির্যাতিতা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র শারীরিক হেনস্থাই নয়, অভিযুক্তরা অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষায় মন্তব্য করত। তাঁর অভিযোগ, “শাড়ি সরিয়ে হাত ঢুকিয়ে দিত ওরা। প্রতিবাদ করলেই বলা হত চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হবে।” এমনকি অনেক ক্ষেত্রে কর্মীদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়েও বিদ্রূপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

ধর্মান্তরণ ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ ঘটনাটি শুধুমাত্র যৌন হেনস্থায় সীমাবদ্ধ নেই। পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) জানতে পেরেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন কর্মী ও উচ্চপদস্থ আধিকারিক মিলে এই চক্র চালাচ্ছিল। অভিযোগ উঠেছে, মহিলা কর্মীদের জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের চাপ দেওয়া হত এবং নির্দিষ্ট ধর্মীয় রীতি পালন করতে বাধ্য করা হত। এমনকি এক কর্মীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণের অভিযোগও সামনে এসেছে।

পুলিশের পর্দাফাঁস ও গ্রেফতারি এই ঘটনার গভীরতা বুঝতে নাসিক পুলিশ এক অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছিল। প্রায় ৪০ দিন ধরে ৬ জন মহিলা পুলিশ কর্মী পরিচয় গোপন করে ওই অফিসে সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ করেন। তাঁদের সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, দীর্ঘদিন ধরে এখানে অপরাধমূলক কাজ চলছিল। ঘটনায় ইতিমধ্যেই অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (HR) সহ ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এইচআর ম্যানেজমেন্টকে বারবার ইমেল ও মেসেজ করা সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বরং অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

সংস্থার প্রতিক্রিয়া ঘটনা সামনে আসতেই অভিযুক্ত কর্মীদের বরখাস্ত করেছে টিসিএস কর্তৃপক্ষ। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “হেনস্থার বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। পুলিশি তদন্তে আমরা সবরকম সহযোগিতা করছি।” তবে ভারতের আইটি সেক্টরের ইতিহাসে এই ঘটনা কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy