আবারও কি খাঁচাবন্দি অফিস? বিশ্বজুড়ে জ্বালানি হাহাকার, পেট্রোল বাঁচাতে ফিরছে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’!

কোভিড অতিমারির স্মৃতি উসকে দিয়ে ফের আলোচনায় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’। তবে এবার কোনো ভাইরাস নয়, নেপথ্যে রয়েছে বিশ্বজুড়ে চরম জ্বালানি সংকট। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ তলানিতে ঠেকেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি’ (IEA) বিশ্বজুড়ে সরকার ও সংস্থাগুলিকে জ্বালানি সাশ্রয়ে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (WFH) সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার জোরালো পরামর্শ দিয়েছে।

জ্বালানি বাঁচাতে আইইএ-র ১০ দফা দাওয়াই সম্প্রতি প্রকাশিত এক রিপোর্টে আইইএ জানিয়েছে, বিশ্বের তেলের চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশ খরচ হয় সড়ক পরিবহনে। যদি সরকারি ও বেসরকারি চাকুরিজীবীরা সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন বাড়ি থেকে কাজ করেন, তবে প্রতিদিন প্রায় ১৭০,০০০ ব্যারেল তেল সাশ্রয় করা সম্ভব। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সাধারণ মানুষের পকেটে টান কম পড়বে।

ভারতের অফিস কালচারে বদলের হাওয়া জ্বালানি সংকটের প্রভাব ইতিমধ্যেই ভারতের বড় বড় কর্পোরেট হাউসে দেখা দিতে শুরু করেছে। পেট্রোল-ডিজেলের দামের পাশাপাশি এলপিজি (LPG)-র সংকটে ধুঁকছে অফিস ক্যানটিনগুলিও।

  • Zoho: ইতিমধ্যেই তাদের কর্মীদের সাময়িকভাবে রিমোট ওয়ার্কের পরামর্শ দিয়েছে।

  • TCS ও HCLTech: পুনে এবং চেন্নাইয়ের মতো শহরে ক্যানটিন পরিষেবা সীমাবদ্ধ করেছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে কর্মীদের বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসার (BYOF – Bring Your Own Food) পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

  • Wells Fargo: সংস্থাটির একজন পদস্থ আধিকারিক সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ দেওয়া একটি সামাজিক দায়িত্ব। এর ফলে বেঁচে যাওয়া জ্বালানি অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি পরিষেবায় কাজে লাগানো যাবে।

ভারতের ওপর কী প্রভাব পড়বে? ভারতে জ্বালানি সংকটের জেরে যাতায়াতের খরচ আকাশছোঁয়া হতে শুরু করেছে। এই অবস্থায় আইটি হাব হিসেবে পরিচিত বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ বা গুরুগ্রামের অফিসগুলি পুনরায় হাইব্রিড মডেল বা ফুল-টাইম ডব্লিউএফএইচ (WFH)-এর পথে হাঁটতে পারে। আইইএ-র পরামর্শ মেনে জাতীয় সড়কগুলিতে গাড়ির গতিবেগ অন্তত ১০ কিমি কমানোর এবং সরকারি পরিবহনের ওপর জোর দেওয়ার কথাও ভাবছে প্রশাসন।

বিশেষজ্ঞদের মত অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২৬-এর এই জ্বালানি সংকট শুধুমাত্র সাময়িক কোনো সমস্যা নয়। যদি যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে অফিস যাওয়ার চিরাচরিত প্রথা চিরতরে বদলে যেতে পারে। এখন দেখার, জ্বালানি সাশ্রয়ের এই ‘অস্ত্র’ ভারতের কর্পোরেট সংস্থাগুলি কত দ্রুত এবং কীভাবে প্রয়োগ করে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy