বন্ধ হচ্ছে হরমুজ প্রণালী! ইরানের হুঁশিয়ারিতে বিশ্বজুড়ে তেলের দামে আগুন, ব্যারেল প্রতি ৯৪ ডলার পার

আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলে এবার রণং দেহি মেজাজে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দেওয়ার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। আর এই উত্তেজনার আঁচ পড়তেই সোমবার বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের বাজারে কার্যত বিস্ফোরণ ঘটেছে।

জ্বালানি তেলের দামে আগুন:
সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪.৭২ শতাংশ লাফিয়ে ব্যারেল প্রতি ৯৪.৬৫ ডলারে পৌঁছেছে। পিছিয়ে নেই আমেরিকার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটও (WTI); এর দাম ৫.৫১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮৮.৪৭ ডলার হয়েছে। জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় কার্যত কাঁপছে বিশ্ব অর্থনীতি।

শেয়ার বাজারে অস্থিরতা:
ইরানের এই হুঁশিয়ারির প্রভাবে আমেরিকার শেয়ার বাজারেও রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে। দিনের শুরুতেই ডাও জোন্স ফিউচারস ৩৬৭.৪৪ পয়েন্ট বা ০.৭৪ শতাংশ পড়ে গিয়েছে। তবে সোনার দামে কিছুটা স্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। অন্যদিকে, এশিয়ার বাজারগুলিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক কিছুটা বাড়লেও সিঙ্গাপুরের বাজারে পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের কড়া অবস্থান:
সিএনএন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, শুক্রবার ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড সাফ জানিয়েছে যে, মার্কিন শত্রুরা ইরানের বন্দর ও জাহাজের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ না তোলা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে। এক বিবৃতিতে IRGC বলেছে, “পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরে কোনো জাহাজ যেন নিজের জায়গা থেকে না নড়ে। হরমুজ অভিমুখে এগোলে তাকে শত্রুপক্ষের সহযোগী হিসেবে গণ্য করে নিশানা করা হবে।” এমনকি তারা জাহাজ মালিকদের মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিবৃতির ওপর বিশ্বাস না করারও পরামর্শ দিয়েছে।

টোল ট্যাক্স না কি তোলাবাজি?
এরই মাঝে ইরান এক নতুন চাল চেলেছে। শনিবার ইরানের এক শীর্ষ কর্তা জানান, যারা হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার জন্য বিশেষ ‘নিরাপত্তা ফি’ দিতে রাজি হবে, কেবল তাদেরই আগে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। যারা এই ফি দেবে না, তাদের যাত্রা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হবে। একে অনেকেই ‘আন্তর্জাতিক তোলাবাজি’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

ট্রাম্পের পাল্টা হুঁশিয়ারি:
এই উত্তেজনার আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে তীব্র কটাক্ষ করে বলেছেন, “ইরানের না আছে নৌবাহিনী, না বিমানবাহিনী। তাদের কোনো নেতা নেই। তারা আমেরিকাকে ব্ল্যাকমেল করার ক্ষমতা রাখে না।” তবে আমেরিকার এই অবজ্ঞার জবাবে ইরান আরও কড়া নিয়ন্ত্রণ জারি করেছে, যার ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এখন এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy