“বাংলার মা-বোনেদের স্বপ্ন ভেঙেছেন, এই পাপের সাজা মিলবেই!” রাজ্যে দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে চরম হুঁশিয়ারি মোদীর

২০২৬-এর বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই বাংলায় ঝোড়ো প্রচারে নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ রাজ্য সফরের এক জনসভা থেকে নাম না করে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন তিনি। লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল (Women’s Reservation Bill) আটকে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বাংলার মা-বোনেদের সঙ্গে যারা এই অপরাধ করেছে, তাদের এর সাজা পেতেই হবে।”

কেন চটলেন প্রধানমন্ত্রী? সম্প্রতি লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস করার ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়া (I.N.D.I.A.) জোটের শরিকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মোদী। তাঁর অভিযোগ:

  • সংরক্ষণ বিরোধী মানসিকতা: প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, তৃণমূল মুখে নারী শক্তির কথা বললেও তলে তলে মহিলাদের ক্ষমতায়নে বাধা দিচ্ছে।

  • পাপ বনাম পুণ্য: তাঁর কথায়, “যাঁরা যুগ যুগ ধরে মা-বোনেদের অধিকার আটকে রেখেছে, তাঁরা আজ বড় বড় কথা বলছে। বিল আটকে দিয়ে আপনারা যে পাপ করেছেন, বাংলার মহিলারা ভোটের বাক্সে তার সাজা দেবে।”

তৃণমূলকে সরাসরি নিশানায়: প্রধানমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করে দেন যে, বিজেপি সরকার মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণে বদ্ধপরিকর, কিন্তু বিরোধীরা বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে এতে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। তিনি সন্দেশখালি ইস্যুর প্রসঙ্গ টেনে এনে দাবি করেন, বাংলায় নারীরা সুরক্ষিত নন এবং শাসক দল তাঁদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

রাজনৈতিক গুরুত্ব: রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর নির্বাচনে রাজ্যের অর্ধেক আকাশ অর্থাৎ মহিলা ভোটারদের মন জয় করা বিজেপির প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পালটা ‘মহিলা সংরক্ষণ’ এবং ‘নিরাপত্তা’ ইস্যুকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন মোদী। তাঁর এই “সাজা পেতে হবে” মন্তব্য আসলে তৃণমূলের মহিলা ভোটব্যাংকে ফাটল ধরানোর এক সুপরিকল্পিত কৌশল।

পালটা জবাব তৃণমূলের: প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে পালটা জানানো হয়েছে যে, বিজেপির ডিলিমিটেশনের চক্রান্তের কারণেই তারা প্রতিবাদ করছে। তাদের দাবি, বিজেপি বিলের নামে ভাঁওতাবাজি করছে, যা বাংলার মানুষ ধরে ফেলেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy