রাজ্যে প্রথম দফার ভোটের ঠিক ৬ দিন আগে নদিয়ার রাজনৈতিক পারদ চড়ল কয়েক গুণ। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) করা অভিযোগের ভিত্তিতে হরিণঘাটা পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা প্রাক্তন পুরচেয়ারম্যান রাজীব দালালকে গ্রেফতার করল কল্যাণী থানার পুলিশ। ভোটের মুখে এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।
ঠিক কী ঘটেছিল?
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ এপ্রিল। কল্যাণী এসডিও (SDO) অফিসে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলির একটি প্রশাসনিক বৈঠক ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি দলের পক্ষ থেকে ১ জন করে প্রতিনিধি থাকার কথা থাকলেও তৃণমূলের তরফে ২ জন হাজির ছিলেন বলে অভিযোগ। কমিশন আধিকারিকরা এতে আপত্তি জানালে বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, রাজীব দালাল রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। এই ঘটনার পরেই কমিশনের পক্ষ থেকে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়, যার ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
অভিষেক-শুভেন্দুর বাগযুদ্ধ:
এই গ্রেফতারির আবহে বাগযুদ্ধে জড়িয়েছেন রাজনৈতিক হেভিওয়েটরা। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলকে বিঁধে বলেন, “এই মুখ্যমন্ত্রীর আমলে তফশিলি থেকে শুরু করে সংখ্যালঘু মহিলারাও সুরক্ষিত নন।” পাল্টা সুর চড়িয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যারা অত্যাচার করছে, ৪ তারিখের পর তাদের সব হিসেব হবে। বাংলার ক্ষমতা কী, তা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”
পরিবারের ক্ষোভ:
রাজীব দালালের স্ত্রীর দাবি, কোনও আগাম নোটিস ছাড়াই শুক্রবার সকালে পুলিশ তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এরপর রাজীব দালাল বাড়ি ফিরতেই তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এই গ্রেফতারির পেছনে রাজনৈতিক চক্রান্ত রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে শাসক দল।





