১০ দিনের শান্তিতেই নরম তেহরান? ট্রাম্পের দূতিয়ালিতে খুলল বিশ্বের ব্যস্ততম জলপথ

মধ্যপ্রাচ্যে ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের কালো মেঘ কি তবে সরতে শুরু করল? লেবাননে ইজরায়েলি আগ্রাসন থামার ইঙ্গিত মিলতেই ঐতিহাসিক এক সিদ্ধান্ত নিল ইরান। বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালী সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য সম্পূর্ণ খুলে দেওয়ার ঘোষণা করলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সায়েদ আব্বাস আরাঘচি।

কেন এই ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ? বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। গত কয়েক সপ্তাহে ইজরায়েল-হিজবুল্লা সংঘর্ষের জেরে এই পথে জাহাজ চলাচল নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ইরানের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ ও যুদ্ধবিরতি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ হিজবুল্লাকে এই শান্তি প্রক্রিয়া বজায় রাখার কড়া বার্তাও দিয়েছেন। এরপরই ইরান তাদের সামুদ্রিক বিধিনিষেধ শিথিল করার কথা জানায়।

হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ: পরিস্থিতি যাতে ফের অগ্নিগর্ভ না হয়, সেজন্য ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনকে সরাসরি হোয়াইট হাউসে আলোচনার জন্য ডেকেছেন ট্রাম্প। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই ১০ দিনের আলোচনা সফল হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে।

চুক্তির মূল শর্তাবলি:

  • ইজরায়েলের অধিকার: আত্মরক্ষার প্রয়োজনে যে কোনও সময় “প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা” নিতে পারবে তেল আভিভ।

  • লেবাননের দায়িত্ব: নিজেদের ভূখণ্ড থেকে হিজবুল্লা বা অন্য কোনও সশস্ত্র গোষ্ঠীর ইজরায়েল বিরোধী হামলা রুখতে হবে বৈরুতকে।

  • নিরাপত্তা বাহিনী: লেবাননের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পূর্ণ দায়িত্ব থাকবে সেদেশের সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর।

ইরানের পোর্টস অ্যান্ড মেরিটাইম অর্গানাইজেশন জানিয়েছে, আগে থেকে নির্ধারিত নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার করেই বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখন থেকে চলাচল করতে পারবে। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, ট্রাম্পের এই সক্রিয় ভূমিকা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির সমীকরণ দ্রুত বদলে দিচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy