বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের মাঝেই ভারতের জন্য এল স্বস্তির খবর। পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে যখন তেলের বাজার অস্থির, ঠিক তখনই রাশিয়ার তেল আমদানিতে ভারতের জন্য ছাড়ের মেয়াদ বাড়াল আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শুক্রবার এক বিশেষ নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, আগামী ১৬ মে পর্যন্ত ভারতসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশ সমুদ্রপথে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য কিনতে পারবে।
১৬ মে পর্যন্ত মিলল সময়সীমা:
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ শুক্রবার গভীর রাতে তাদের ওয়েবসাইটে এই নতুন লাইসেন্সটি প্রকাশ করেছে। ১১ এপ্রিল আগের ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই নতুন ৩০ দিনের উইন্ডো তৈরি করা হলো। মূলত বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণ করতেই ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ। তবে এই ছাড়ের আওতা থেকে ইরান, কিউবা এবং উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ বাদ রাখা হয়েছে।
ভারতের কূটনৈতিক জয়:
সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের মার্কিন সফরের সময় এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হয়েছিল। যদিও মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেস্যান্ট আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ছাড় আর বাড়ানো হবে না, কিন্তু ভারতের ধারাবাহিক আলোচনার ফলে ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত নমনীয় অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে। হরমুজ প্রণালী আংশিক বন্ধ থাকায় সরবরাহ শৃঙ্খল বজায় রাখা ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছিল, যা এই সিদ্ধান্তের ফলে অনেকটাই সহজ হবে।
রাশিয়ার আশ্বাস ও রেকর্ড আমদানি:
ভারতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারত রাশিয়ার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে রাশিয়া ভারতে অপরিশোধিত তেল, এলপিজি এবং এলএনজি সরবরাহ আরও বাড়াতে প্রস্তুত। পরিসংখ্যান বলছে, গত মার্চ মাসেই রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি তিনগুণ বেড়ে ৫.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৪ সালে ভারত প্রতিদিন প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। জ্বালানির এই নিরবচ্ছিন্ন যোগান ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যবৃদ্ধি রোধে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





