মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন যুদ্ধের কালো মেঘে ঢাকা, ঠিক তখনই নাটকীয় এক সফরে ইরানে পৌঁছলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান (ফিল্ড মার্শাল) আসিম মুনির। তাঁর এই সফরকে ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে। কূটনৈতিক মহলের একাংশ তাঁকে আমেরিকার ‘দূত’ বা বার্তা বাহক হিসেবেই দেখছেন। সঙ্গে রয়েছেন মন্ত্রী মহসিন নকভি ও একঝাঁক পাক আধিকারিক।
কী মিশন নিয়ে ইরানে মুনির? যতদূর জানা যাচ্ছে, ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে তলানিতে ঠেকে থাকা সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের শেষ চেষ্টা করতে চাইছে ইসলামাবাদ। আসিম মুনির দুই চরম শত্রু দেশের মধ্যে ‘সেতুর’ কাজ করছেন। এর আগেও পাকিস্তান এমন চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া অবস্থান এবং তেহরানের অনমনীয়তায় সেই শান্তি পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছিল। এবার ফের একবার আলোচনার টেবিল সাজানোর লক্ষ্য নিয়েই মুনিরের এই সফর।
তেহরানের প্রতিক্রিয়া: আসিম মুনির পৌঁছনোর পরই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরগাছি তাঁদের স্বাগত জানান। পরে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “পাকিস্তানের মাধ্যমে অনেক জরুরি বার্তা তেহরানে পৌঁছেছে।” এই সফরের ফলে ইসলামাবাদে পুনরায় ত্রিপাক্ষিক আলোচনার পথ খুলে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কাঁটা সেই পরমাণু সমৃদ্ধকরণ: আলোচনার আবহ তৈরি হলেও মূল জটিলতা আটকে রয়েছে পরমাণু ইস্যুতে। ইরানের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই পরিষ্কার করে দিয়েছেন:
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার থেকে ইরান একচুলও সরবে না।
তবে কতটা পরিমাণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা হবে, তা নিয়ে আলোচনার জায়গা রয়েছে।
আমেরিকা যদি ইরানের এই ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করার চেষ্টা করে, তবে আলোচনা অসম্ভব।
ট্রাম্পের ‘দ্বিমুখী’ চাল: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে যেমন বলছেন আলোচনার রাস্তা খোলা আছে, অন্যদিকে পেন্টাগন সূত্রে খবর— মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০,০০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। ট্রাম্পের এই মিশ্র সংকেত ইরানকে কতটা আশ্বস্ত করবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন রয়েছে।
এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতি:
ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকা বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি করছে পাকিস্তান।
পরমাণু ইস্যুতে ছাড় দিতে নারাজ তেহরান।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনার উপস্থিতি বাড়ায় যুদ্ধের হুমকি বহাল।
বিশেষজ্ঞদের মত: পাকিস্তান এই মধ্যস্থতায় সফল হলে বিশ্বমঞ্চে তাদের গুরুত্ব বাড়বে। কিন্তু গতবারের ব্যর্থতা মাথায় রাখলে, আসিম মুনিরের এই মিশনের সাফল্যের কোনো গ্যারান্টি নেই।





