২০২৬ সালে এসে ভারতের বাজারে SIP-র জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া হলেও, নতুন পরিসংখ্যান বলছে বহু বিনিয়োগকারী সঠিক কৌশলের অভাবে আশানুরূপ রিটার্ন পাচ্ছেন না। মার্চ ২০২৬-এ দেখা গিয়েছে, ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ডে প্রচুর টাকা এলেও অনেকেই মাঝপথে SIP বন্ধ করে নিজের বড় ক্ষতি করছেন। আপনার SIP যেন সঠিক পথে থাকে, তার জন্য এড়িয়ে চলুন নিচের এই ৫টি সাধারণ ভুল।
১. বাজার পড়লে SIP বন্ধ করা (Panic Stopping)
সবথেকে বড় ভুল হলো এটি। অনেক বিনিয়োগকারী যখন দেখেন মার্কেট লাল সঙ্কেত দেখাচ্ছে, তখন ভয়ে SIP বন্ধ করে দেন। কিন্তু মনে রাখবেন, বাজার যখন নিচু স্তরে থাকে, তখনই আপনি একই টাকায় বেশি সংখ্যক ‘ইউনিট’ পান (যাকে বলে Rupee Cost Averaging)। বাজার ফের চাঙ্গা হলে এই অতিরিক্ত ইউনিটগুলোই আপনার লাভের পাল্লা ভারি করবে।
২. স্টেপ-আপ (Step-up) না করা
আপনার আয় প্রতি বছর বাড়ে, কিন্তু আপনি কি SIP-এর অংক বাড়ান? ২০২৬-এর রেকর্ড বলছে, যারা প্রতি বছর মাত্র ১০% হারে বিনিয়োগের অংক বাড়ান (Top-up SIP), তাঁদের রিটার্ন অন্যদের তুলনায় ৩০-৪০% বেশি হয়। মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিতে প্রতি বছর বিনিয়োগের অংক বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
৩. স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে আসা
অনেকে ১ বা ২ বছরের জন্য SIP শুরু করেন। কিন্তু শেয়ার বাজারের সাইকেল ৫-৭ বছরের নিচে পূর্ণ হয় না। সম্প্রতি কিছু সেক্টরাল ফান্ডে ২০% পর্যন্ত লোকসান দেখা গিয়েছে যা কেবল দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। দীর্ঘ সময়ের জন্য টাকা না রাখলে ‘পাওয়ার অফ কম্পাউন্ডিং’-এর জাদু কাজ করবে না।
৪. লক্ষ্যহীন বিনিয়োগ (Goal-less Investing)
আপনি কেন বিনিয়োগ করছেন? বাড়ি কেনা, সন্তানের পড়াশোনা না কি রিটায়ারমেন্ট? কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য না থাকলে বাজার একটু পড়লেই আপনি টাকা তুলে নেওয়ার প্রলোভন সামলাতে পারবেন না। প্রতিটি SIP-র সঙ্গে একটি করে ফিন্যান্সিয়াল গোল যুক্ত রাখুন।
৫. অতীতের রিটার্ন দেখে ফান্ড বাছাই
২০২৫ বা ২০২৬-এ যে ফান্ড সেরা পারফর্ম করেছে, ২০২৭-এও সে সেরাই থাকবে— এমন কোনো গ্যারান্টি নেই। কেবল গত বছরের চার্ট না দেখে ফান্ডের ‘এক্সপেন্স রেশিও’ (Expense Ratio), ফান্ড ম্যানেজারের ট্র্যাক রেকর্ড এবং পোর্টফোলিও ডাইভারসিফিকেশন দেখে তবেই বিনিয়োগ করুন।





