ইরানের সঙ্গে মহাবৈঠকের আগেই ভ্যান্সের কড়া বার্তা! “এক রাতে সব মেটে না”, তবে কি শান্তির পথ আরও কঠিন?

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে জমে থাকা কয়েক দশকের বরফ কি তবে গলতে শুরু করেছে? দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকের ঠিক আগেই এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যে দীর্ঘদিনের ‘অবিশ্বাস’ তৈরি হয়েছে, তা কোনো জাদুবলে এক রাতের মধ্যে মিটিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। তবে এই বক্তব্যের নেপথ্যে যুদ্ধের দামামা থামানোর ইঙ্গিতও দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

১. ভ্যান্সের কণ্ঠে বাস্তবের সুর

দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকের প্রাক্কালে জেডি ভ্যান্স বলেন, “আমরা টেবিলে বসে কথা বলছি মানেই এই নয় যে সব সমস্যা মিটে গেছে। দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাসের পাহাড় জমে আছে। এক রাতের মধ্যে সেই সম্পর্কের সমীকরণ বদলে ফেলার আশা করা বোকামি।” ভ্যান্সের এই মন্তব্যে যেমন সতর্কবার্তা রয়েছে, তেমনই রয়েছে দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত।

২. কেন এই দ্বিতীয় বৈঠক?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘হাগ ডিপ্লোম্যাসি’ এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণার পর থেকেই তেহরানের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের নতুন মোড় দেখা যাচ্ছে। প্রথম দফার বৈঠকে কিছুটা বরফ গলেছিল, এবার দ্বিতীয় দফায় মূলত পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। চিনকে পাশে টেনে ট্রাম্প যেভাবে ইরানকে আলোচনার টেবিলে এনেছেন, তাকে বড় জয় হিসেবেই দেখছে হোয়াইট হাউস।

৩. বাধা কোথায়?

ভ্যান্সের মতে, অতীতের ড্রোন হামলা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের লড়াই দুই দেশের মধ্যে যে ক্ষত তৈরি করেছে, তা সারাতে সময় লাগবে। তাই তাড়াহুড়ো না করে ধাপে ধাপে এগোতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন। আমেরিকা চায় ইরানের থেকে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি, যাতে তারা আর কোনো চরমপন্থী গোষ্ঠীকে মদত না দেয়।

৪. বিশ্ববাজারের ওপর প্রভাব

ভ্যান্সের এই ‘বাস্তববাদী’ মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সামান্য কমেছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, অন্তত সরাসরি যুদ্ধের সম্ভাবনা এখন নেই। তবে বৈঠকের ফলাফল কী হয়, তার ওপর নির্ভর করছে তেলের দাম এবং এশিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy