২০২৬ সালের বিশ্ব রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই একের পর এক নাটকীয় মোড় দেখা যাচ্ছে। এবার ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বুধবার ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, তিনি বিশ্ব বাণিজ্যের স্বার্থে এবং বিশেষ করে চিনকে ‘সুবিধা’ দিতে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পাকাপাকিভাবে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এই দাক্ষিণ্যের বদলে বেজিং-এর কাছ থেকে এক বড় প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিয়েছেন তিনি।
১. চিনের জন্য ট্রাম্পের ‘মাস্টারস্ট্রোক’
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেছেন, “চিন অত্যন্ত খুশি যে আমি পাকাপাকিভাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দিচ্ছি। আমি এটা তাদের জন্য এবং গোটা বিশ্বের জন্য করছি। এই পরিস্থিতি আর কখনও ফিরবে না।” উল্লেখ্য, ইরান সীমান্ত ঘেঁষা এই জলপথটি বিশ্ব তেলের বাণিজ্যের প্রাণভোমরা। এটি বন্ধ থাকলে চিনের মতো তেল আমদানিকারক দেশগুলোর নাভিশ্বাস উঠছিল।
২. ডিলের নেপথ্যে কী?
ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিনিময়ে চিন একটি বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে— তারা আর ইরানকে কোনো অস্ত্র সরবরাহ করবে না। ট্রাম্পের এই কৌশলী চালের উদ্দেশ্য হলো ইরানকে সামরিকভাবে কোণঠাসা করা এবং একই সঙ্গে চিনের ওপর মার্কিন প্রভাব বজায় রাখা।
৩. “প্রেসিডেন্ট শি আমাকে বড় একটি আলিঙ্গন দেবেন”
নিজের স্বভাবসিদ্ধ কৌতুকপূর্ণ ঢঙে ট্রাম্প লিখেছেন, “আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমি চিন সফরে যাচ্ছি। সেখানে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আমাকে বড় এক ‘ফ্যাট হাগ’ (Big, Fat Hug) দেবেন। আমরা খুব স্মার্টলি একসঙ্গে কাজ করছি। যুদ্ধ করার চেয়ে এটা কি অনেক ভালো নয়?” তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে এও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, আমেরিকা যুদ্ধ করতেও অত্যন্ত দক্ষ।
৪. ভারতের ওপর প্রভাব
হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই ঘোষণার ফলে স্বস্তিতে ভারতও। ভারতের তেল আমদানির একটি বড় অংশ এই পথেই আসে। এই প্রণালীটি স্থায়ীভাবে খোলা থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে, যা ভারতের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। এদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও ট্রাম্পের কথা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।





