২০২৬ সালের পর ভারতের লোকসভার আসন সংখ্যা একলাফে অনেকটা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আর এই ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস ঘিরেই এবার কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিচ্ছে জাতীয় রাজনীতি। মোদী সরকারের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এবার একযোগে সরব হলো বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)। বিরোধীদের দাবি, এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে।
১. ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মূল আপত্তি কোথায়?
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, জনসংখ্যার ভিত্তিতে যদি লোকসভার আসন বাড়ানো হয়, তবে তার সরাসরি সুবিধা পাবে হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলো। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যে আসন সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যাবে। এর ফলে দিল্লির তখতে কে বসবে, তা কেবল উত্তর ভারতই নির্ধারণ করবে— যা দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্বকে কার্যত শূন্য করে দেবে।
২. দক্ষিণের ‘শাস্তি’ বনাম উত্তরের ‘পুরস্কার’?
বিরোধী জোটের অন্যতম শরিক ডিএমকে (DMK) এবং তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, দক্ষিণ ভারত ও বাংলার মতো রাজ্যগুলো সাফল্যের সঙ্গে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করেছে। কিন্তু ডিলিমিটেশন হলে জনসংখ্যার নিরিখে এই রাজ্যগুলোই আসন হারাবে বা পিছিয়ে পড়বে। বিরোধীদের প্রশ্ন, “ভালো কাজ করার জন্য কি রাজ্যগুলোকে রাজনৈতিক ক্ষমতা কমিয়ে শাস্তি দেওয়া হবে?”
৩. ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক
সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়া’ জোটের এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, সংসদ থেকে রাস্তা— সর্বত্র এই আসন পুনর্বিন্যাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হবে। বিরোধীদের দাবি, কেবল জনসংখ্যা নয়, জিডিপি (GDP) এবং উন্নয়নের নিরিখেও আসনের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। নতুন সংসদ ভবনে ৮৮৮টি আসন তৈরির উদ্দেশ্য নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলছে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো।
৪. সরকারের পালটা যুক্তি
যদিও কেন্দ্রের দাবি, সংবিধান অনুযায়ী ডিলিমিটেশন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া যা জনসংখ্যার সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে। তবে বিরোধীরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের মতে, এটি আসলে বিজেপি-র একটি সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক কৌশল, যাতে উত্তর ভারতে নিজেদের আধিপত্য কাজে লাগিয়ে আজীবন ক্ষমতায় টিকে থাকা যায়।





