তথ্যপ্রযুক্তি জগতের নামী সংস্থা TCS-এর নাসিক অফিসে যা ঘটছিল, তাকে কেবল ‘অপরাধ’ বললে কম বলা হয়। পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) এবং গোয়েন্দাদের পেশ করা রিপোর্টে উঠে এসেছে এক ভয়ঙ্কর চিত্র। অভিযোগ, সেখানে মহিলা কর্মীদের চাকরি দেওয়ার নাম করে নিয়ে আসা হতো এবং পরবর্তীতে তাঁদের যৌন হেনস্থা ও ধর্মান্তকরণের জন্য চাপ দেওয়া হতো।
কীভাবে চলত এই ‘টার্গেট’ করার কাজ?
তদন্তে জানা গিয়েছে, নিয়োগের সময় থেকেই বিশেষ কিছু হিন্দু তরুণীকে ‘টার্গেট’ হিসেবে বেছে নেওয়া হতো।
মগজধোলাই ও প্রলোভন: অভিযুক্ত টিম লিডাররা তরুণীদের বলতেন যে ইসলাম গ্রহণ করলে বিদেশে ভালো চাকরি ও উন্নত জীবন পাওয়া যাবে। এমনকি একজনের পক্ষাঘাতগ্রস্ত বাবাকে সুস্থ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও ইসলাম গ্রহণে প্ররোচনা দেওয়া হয়।
ধর্মীয় অনুশাসনে বাধ্য করা: আক্রান্ত মহিলা কর্মীদের অভিযোগ, তাঁদের জোর করে রোজা রাখতে বাধ্য করা হতো, কপালে তিলক পরায় বাধা দেওয়া হতো এবং জোর করে গোমাংস খাওয়ানো হতো। এমনকি এক তরুণীকে বোরখা পরতে এবং নামাজ পড়তে বাধ্য করার প্রমাণও মিলেছে।
ব্ল্যাকমেল ও যৌন হেনস্থা: অনেক ক্ষেত্রে প্রেমের অভিনয় বা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তরুণীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হতো। পরে গোপন ভিডিও বা ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেল করে ধর্মান্তকরণের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হতো।
HR-এর ভূমিকা ও পুলিশের ছদ্মবেশ
এই ঘটনার সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো, সংস্থার এইচআর ম্যানেজার নিদা খান এবং অন্যান্য আধিকারিকদের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। উল্টে অভিযোগকারীনিদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকি দেওয়া হতো।
গোপন অভিযান: ঘটনার গুরুত্ব বুঝে নাসিক পুলিশ ছদ্মবেশে মহিলা পুলিশকর্মীদের ‘হাউসকিপিং স্টাফ’ হিসেবে অফিসের ভেতরে পাঠায়। সেখান থেকেই হাতেনাতে প্রমাণ মেলে।
গ্রেপ্তার: এখনও পর্যন্ত এইচআর ম্যানেজার নিদা খান-সহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে আসিফ আনসারি, দানিশ শেখ এবং শাহরুখ কুরেশির মতো টিম লিডাররা রয়েছেন।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী গিরীশ মহাজন এই ঘটনাকে “অত্যন্ত লজ্জাজনক” বলে অভিহিত করেছেন। বিজেপি একে ‘কর্পোরেট জিহাদ’ বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে, TCS-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা এই ধরণের আচরণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলে এবং অভিযুক্তদের ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে।
আইনি ধারা: ধৃতদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ (BNS ধারা ৬৯), যৌন হেনস্থা (ধারা ৭৫) এবং ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত (ধারা ২৯৯)-এর মতো কড়া ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।





