২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যাচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বকে। বুধবার জলপাইগুড়ির এক জনসভা থেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর সাফ কথা, “আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটেই মানুষের ওপর হওয়া প্রতিটি অন্যায়ের হিসাব নেবে জনগণ।”
“উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করব”
এদিন জনসভা থেকে তৃণমূলের তথাকথিত ‘গুন্ডাবাহিনী’র উদ্দেশ্যে বেনজির আক্রমণ শানান শাহ। তিনি বলেন:
ভয়হীন ভোট: “কোনো গুন্ডা আপনাদের গায়ে হাত দেওয়ার সাহস পাবে না। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে, আপনারা বুক ফুলিয়ে ভোট দিতে যান।”
কড়া হুঁশিয়ারি: যারা ভোট লুট বা ভোটারদের ভয় দেখানোর ছক কষছে, তাদের উদ্দেশ্যে শাহের হুঙ্কার— “ভোটের পর বিজেপি সরকার গড়ছে। যারা আইন হাতে নেবে, তাদের উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করে দেবে আমাদের সরকার।”
২৩ এপ্রিল কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উল্লেখ্য, আগামী ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। এই দফায় উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও ভোট রয়েছে। শাহের দাবি, এই দিনটিই হবে তৃণমূল সরকারের পতনের সূচনার দিন। তিনি বলেন, “এই ২৩ তারিখ কেবল ভোটের দিন নয়, এটা মমতা সরকারের অপশাসনের হিসাব বুঝে নেওয়ার দিন।”
বিজেপির প্রতিশ্রুতি ও আক্রমণ
শাহ এদিন ফের একবার অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি এবং সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে রাজ্য সরকারকে বিঁধেছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান হবে এবং চা-বাগান শ্রমিকদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে: শাহের এই ‘আক্রমণাত্মক ভাষা’ আদতে নিচুতলার কর্মীদের মনোবল বাড়ানো এবং ভোটারদের মনে সাহস জোগানোর একটি বিশেষ কৌশল।





