নির্বাচনী আবহে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতি-সক্রিয়তা এবং তল্লাশি অভিযান নিয়ে ফের উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি। বুধবার উত্তরবঙ্গের ইসলামপুরের এক জনসভা থেকে এই ইস্যুতে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী কেবল বিরোধী দলের নেতাদেরই টার্গেট করছে। এই প্রেক্ষাপটেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, “প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি কেন চেক করা হয় না?”
বৈষম্যের অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর
সুপর্ণা পারুইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, সভামঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়:
একপাক্ষিক তল্লাশি: মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের গাড়ি এবং হেলিকপ্টার বারবার চেক করা হচ্ছে। এমনকি তাঁর নিজের গাড়িও চেক করতে পিছুপা হচ্ছে না বাহিনী।
প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গ: তিনি সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “আইন কি সবার জন্য এক নয়? আমার গাড়ি চেক হলে দেশের প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বা হেলিকপ্টার কেন চেক করা হয় না? সেখানে কী আছে তা কি দেশবাসী জানবে না?”
আচারের অভিযোগ: বাহিনীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর এবং পক্ষপাতের অভিযোগও এনেছেন তিনি।
বিজেপির পাল্টা যুক্তি
মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণের জবাবে বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী এসপিজি (SPG) নিরাপত্তা পান, যার নির্দিষ্ট প্রোটোকল রয়েছে। তাদের দাবি, “হার নিশ্চিত জেনে মুখ্যমন্ত্রী এখন মনগড়া অভিযোগ তুলে বাহিনীকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছেন।”
উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে প্রভাব
ইসলামপুরের এই সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল নিরাপত্তা নিয়েই কথা বলেননি, তিনি কেন্দ্রীয় বঞ্চনা এবং এনআরসি (NRC) ইস্যুকেও ফের উসকে দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গে বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে থাবা বসাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ধরণের আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়েছেন।
বিশেষ মুহূর্ত: এদিন বক্তব্য রাখার সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজের ব্যক্তিগত ব্যাগ দেখিয়ে বলেন, “আমি কি ভয় পাই? যতবার খুশি তল্লাশি করুন, আমার কাছে সত্য ছাড়া আর কিছু পাবেন না।”





