নববর্ষের উৎসবে যখন গোটা বাংলা মেতেছে, তখন সেই উৎসবের আমেজকেও রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পয়লা বৈশাখের সকালে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তিনি আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে। মোদী সরকারকে ‘দিল্লির জমিদার’ বলে কটাক্ষ করে আসন্ন নির্বাচনে জোড়াফুল শিবিরকে জয়ী করার আর্জি জানালেন তৃণমূল নেত্রী।
শুভেচ্ছাবার্তায় তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বার্তায় জানান, বাংলার মানুষ উৎসব প্রিয় হলেও তাঁরা নিজেদের অধিকারের বিষয়ে সচেতন। তাঁর অভিযোগ:
বকেয়া টাকা নিয়ে বঞ্চনা: ‘দিল্লির জমিদাররা’ বাংলার হকের টাকা আটকে রেখেছে। আবাস যোজনা থেকে ১০০ দিনের কাজ— সব ক্ষেত্রেই বাংলাকে ভাতে মারার চেষ্টা চলছে।
বাংলার সংস্কৃতি রক্ষা: বহিরাগত শক্তির হাত থেকে বাংলার সংস্কৃতি ও সম্মান বাঁচাতে একমাত্র তৃণমূলই সক্ষম।
মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা: “শুভ নববর্ষের এই পুণ্য লগ্নে আমরা শপথ নিই, দিল্লির কোনো শক্তির সামনে আমরা মাথা নত করব না। বাংলার উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে জোড়াফুলই আপনাদের একমাত্র বিকল্প।”
ভোটের আর্জি কেন?
নববর্ষের দিন সচরাচর রাজনৈতিক সংঘাত এড়িয়ে চলার রেওয়াজ থাকলেও, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক মুহূর্তও নষ্ট করতে চাইছেন না। তাঁর এই বার্তায় স্পষ্ট: ১. তিনি উন্নয়ন এবং বঞ্চনাকে প্রধান ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছেন। ২. উৎসবের আবহে সাধারণ মানুষের আবেগ স্পর্শ করে ভোটব্যাঙ্ক মজবুত করতে চাইছেন। ৩. ‘দিল্লির জমিদার’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করে তিনি স্থানীয় বনাম বহিরাগত তকমাটিকে ফের উসকে দিতে চাইছেন।
পাল্টা তোপ বিরোধীদের
মমতার এই বার্তাকে অবশ্য ‘উৎসবের রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, নববর্ষের মতো পবিত্র দিনেও নেত্রী রাজনীতি টেনে এনে পরিবেশ বিষিয়ে দিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগকে ‘মিথ্যে অজুহাত’ বলে উড়িয়ে দিয়ে বিজেপি জানিয়েছে, দুর্নীতি ঢাকা দিতেই বারবার দিল্লির দোহাই দেওয়া হচ্ছে।
পয়লা বৈশাখের প্রভাতে এই রাজনৈতিক বাক্যযুদ্ধ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, নতুন বছরে বাংলার রাজনীতির ময়দান আরও তপ্ত হতে চলেছে।





