নতুন বছরের শুরুতেই নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়ল বাংলার রাজভবন। পয়লা বৈশাখের সকালে রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া রাজ্যপাল সি.ভি. আনন্দ বোসের (Governor C.V. Ananda Bose) একটি বার্তাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কেবল শুভেচ্ছাবার্তা নয়, বরং বার্তার বয়ান এবং তাতে উল্লিখিত নাম নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি।
কী সেই বিভ্রান্তি?
এদিন রাজভবন থেকে যে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়, তাতে বর্তমান রাজ্যপাল সি.ভি. আনন্দ বোসের নাম থাকার কথা থাকলেও, কোনো কোনো জায়গায় রাজ্যপাল আর.এন. রবির (R.N. Ravi) নাম দেখতে পাওয়া যায়। যদিও বিষয়টি যান্ত্রিক ত্রুটি বা অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে মনে করা হচ্ছে, তবুও নির্বাচনের আবহে এই নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস।
অস্বস্তিকর পরিস্থিতি: রাজ্য প্রশাসনের একাংশের মতে, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বা আনুষ্ঠানিক নথিতে এ ধরনের নাম বিভ্রাট রাজভবনের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। বিশেষ করে যখন রাজ্যপাল এবং রাজ্য সরকারের সম্পর্ক এমনিতেই ‘মধুর’, তখন এই ঘটনা ঘৃতাহুতি হিসেবে কাজ করছে।
শুভেচ্ছাবার্তায় কী ছিল?
বিতর্ক সরিয়ে রাখলে, রাজ্যপাল তাঁর বার্তায় বাংলার ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন বছরে বাংলার মানুষ শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। তবে রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে তাঁর বার্তার অন্তিম অংশ, যেখানে তিনি নাম না করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্রের সুরক্ষা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন।
তৃণমূলের পাল্টা তোপ
রাজ্যপালের এই ‘ভুল’ এবং তাঁর বার্তার বয়ান নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল। ঘাসফুল শিবিরের দাবি:
বিভ্রান্তি সৃষ্টি: রাজ্যপাল কি আদৌ বাংলার বিষয়ে অবগত? নাকি দিল্লির স্ক্রিপ্ট পড়তে গিয়ে পুরনো কোনো বয়ান ব্যবহার করা হচ্ছে?
বিজেপির এজেন্ট: তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, রাজ্যপাল পদের গরিমা ভুলে তিনি বিজেপির হয়ে প্রচার করছেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্যকে বদনাম করার চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে, বিজেপি এই ঘটনাকে লঘু করে দেখিয়ে জানিয়েছে, এটি নেহাতই একটি ছোট ভুল, যা বড় করে দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছেন।
নববর্ষের আনন্দ-উৎসবের মাঝেই রাজভবন বনাম নবান্নের এই ‘বাকযুদ্ধ’ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী দিনগুলিতে রাজভবনের সঙ্গে রাজ্যের সংঘাত আরও তীব্র হতে চলেছে।





