লোকসভা আসন সংখ্যা পুনর্নির্ধারণ বা ‘ডিলিমিটেশন’ (Delimitation) নিয়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন। বুধবার ডিএমকে (DMK) সাংসদ ও জেলা সম্পাদকদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকের পর তিনি বিজেপিকে সতর্ক করে বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার আগুন নিয়ে খেলছে।” তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার এই ‘ষড়যন্ত্র’ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন তিনি।
কেন ক্ষুব্ধ স্ট্যালিন?
কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পর জনসংখ্যার ভিত্তিতে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে। স্ট্যালিনের অভিযোগ:
সফলতার সাজা: দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি সাফল্যের সঙ্গে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করেছে। এখন জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বাড়লে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলি বেশি আসন পাবে এবং দক্ষিণ ভারত তার রাজনৈতিক গুরুত্ব হারাবে।
বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা: স্ট্যালিনের মতে, এটি দক্ষিণ ভারতের মানুষের কণ্ঠস্বর চেপে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত ছক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “উন্নয়ন করার অপরাধে কি আমাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে?”
প্রতিবাদের কর্মসূচি: ‘ঘরে ঘরে কালো পতাকা’
আগামীকাল, ১৬ এপ্রিল সংসদে এই সংক্রান্ত বিল পেশ হতে পারে। তার প্রতিবাদে স্ট্যালিন এক নজিরবিহীন আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন:
কালা দিবস: ১৬ এপ্রিল তামিলনাড়ুর প্রতিটি ঘরে এবং সরকারি-বেসরকারি জায়গায় কালো পতাকা ওড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রাজ্য স্তব্ধ করার হুঁশিয়ারি: মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, কেন্দ্র যদি একতরফাভাবে এই ‘কালো আইন’ চাপিয়ে দেয়, তবে ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকের মতো বড়সড় গণ-আন্দোলন দেখবে দেশ। তামিলনাড়ু স্তব্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
দক্ষিণের ঐক্যবদ্ধ লড়াই
স্ট্যালিন একা নন, এই ইস্যুতে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভান্থ রেড্ডিও তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। দক্ষিণের সবকটি রাজ্যকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ গড়ার ডাক দিয়েছেন তাঁরা। স্ট্যালিনের কথায়, “এটি কেবল রাজনীতির লড়াই নয়, এটি আমাদের আত্মসম্মান ও অধিকার রক্ষার লড়াই।”
বিজেপির এই পদক্ষেপকে ‘গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত’ বলে উল্লেখ করে স্ট্যালিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তামিলনাড়ুর মানুষকে যেন ‘দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক’ হিসেবে গণ্য করার ভুল না করা হয়।





