লোকসভা নির্বাচনের আবহে ফের কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতি-সক্রিয়তা নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার তাঁর নিশানায় খোদ নিজের কনভয় আটকানোর প্রসঙ্গ। উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের জনসভা থেকে মমতা দাবি করেন, কেবল অভিষেক বা রুজিরা নন, রেহাই দেওয়া হয়নি তাঁকেও। দমদমে তাঁর গাড়িও আটকানোর চেষ্টা করেছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।
ঠিক কী ঘটেছিল? মুখ্যমন্ত্রীর বয়ানে:
ইসলামপুরের মঞ্চ থেকে বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাকে আক্রমণ করতে গিয়ে মমতা বলেন,
“দমদমে আমার গাড়ির কাছেও এসেছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। আমি গাড়ি থামিয়ে বললাম, চেক করো। আমার ব্যাগে কী আছে দেখবে? হিম্মত থাকলে চেক করো।”
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ভয় দেখিয়ে বা গাড়ি আটকে তৃণমূলের মনোবল ভাঙা যাবে না। তিনি সাফ জানান, বিরোধী নেতাদের হেনস্থা করার যে ‘ব্লু-প্রিন্ট’ তৈরি হয়েছে, তিনি তার সামনে মাথা নত করবেন না।
কেন এই অভিযোগ?
সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টার এবং কনভয়ে তল্লাশি চালানো নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। তৃণমূলের দাবি, বেছে বেছে জোড়াফুল শিবিরের নেতাদেরই টার্গেট করা হচ্ছে। মমতা এদিন স্পষ্ট করে দেন:
বিষম্যমূলক আচরণ: কেন শুধু তৃণমূল নেতাদের গাড়ি তল্লাশি হচ্ছে? কেন বিজেপি নেতাদের কনভয় পরীক্ষা করা হচ্ছে না?
ভয় দেখানোর রাজনীতি: কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে ভোটার ও নেতাদের মনে ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।
চ্যালেঞ্জ: মুখ্যমন্ত্রী নিজে গাড়ি থেকে নেমে বাহিনীকে তল্লাশি করার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তিনি লড়াইয়ের ময়দান ছাড়ছেন না।
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়
মমতার এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের কনভয় আটকানোর প্রসঙ্গ টেনে মমতা আসলে ভোটারদের বোঝাতে চেয়েছেন যে তিনি এবং তাঁর দল ‘ভিকটিমাইজড’ হচ্ছেন। এতে জনসমর্থন আদায়ের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিলেন তৃণমূল নেত্রী।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিরোধীরা বলছে, নিয়ম সবার জন্য সমান। যদি তল্লাশি হয়েও থাকে, তবে তাতে এত বিচলিত হওয়ার কী আছে? সব মিলিয়ে নির্বাচনের মুখে ‘গাড়ি তল্লাশি’ এখন বাংলার রাজনীতির নয়া হট টপিক।





