বাঙালির ক্যালেন্ডারে আজ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন। নতুন জামা, মিষ্টির প্যাকেট আর মন্দিরে মন্দিরে হালখাতার ভিড়ে বাংলা যখন মজে, তখন কলকাতার ফুটবল ময়দান মাতল তার নিজস্ব এবং চিরন্তন ঐতিহ্যে। মঙ্গলবার থেকেই ছিল সাজ সাজ রব, আর আজ বুধবার পয়লা বৈশাখের ভোরে ধূপ-ধুনোর গন্ধে আর সমর্থকদের উল্লাসে সম্পন্ন হল ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান সহ ময়দানের প্রতিটি ক্লাবের ‘বারপুজো’।
এক সময় এই পয়লা বৈশাখ থেকেই বাংলার ফুটবল মরসুমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হত। কালের নিয়মে সূচি বদলালেও ঐতিহ্য অমলিন। প্রথা মেনে বুধবার সকাল থেকেই ক্লাব তাঁবুগুলোতে ভিড় জমান বর্তমান ফুটবলার, কোচিং স্টাফ এবং ক্লাব কর্তারা। মাঠের গোলপোস্টের নিচের অংশ বা ‘বার’ পুজো করে নতুন বছরের শুভ সূচনা করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই পুজোর মাধ্যমেই আগামী মরসুমের সমস্ত বাধা বিপত্তি দূর হয়ে ক্লাবের ঘরে আসবে ট্রফি।
সকাল থেকেই ময়দান চত্বরে দেখা গেল উৎসবের মেজাজ। সমর্থকদের পরনে নতুন পোশাক, হাতে ক্লাবের পতাকা। লাল-হলুদ আর সবুজ-মেরুন শিবিরে আজ কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং ছিল সম্প্রীতির সুর। ফুটবলাররা একে অপরের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পুজোর শেষে সমর্থকদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ এবং ক্লাবের অন্দরমহলে চলে জমিয়ে আড্ডা। তিলোত্তমার ফুটবল প্রেমী মানুষের কাছে পয়লা বৈশাখ মানেই শুধু ক্যালেন্ডার বদল নয়, বরং প্রিয় ক্লাবের গোলপোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে নতুন স্বপ্নের বুনন।





