বিহারের রাজনীতিতে আজ এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ। দীর্ঘ কয়েক দশকের জোট রাজনীতির সমীকরণ ভেঙে এই প্রথমবার বিহারের কুর্সিতে বসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টির নিজস্ব মুখ্যমন্ত্রী। আজ, বুধবার বিহার লোক ভবনে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন সম্রাট চৌধুরী। মঙ্গলবারই জেডিইউ সুপ্রিমো নীতীশ কুমার নাটকীয়ভাবে তাঁর পদত্যাগ ঘোষণা করার পর বিজেপি শিবিরে শুরু হয় সাজ সাজ রব। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক শিবরাজ সিং চৌহানের উপস্থিতিতে বিধায়ক দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সম্রাট চৌধুরীর নাম চূড়ান্ত করা হয়।
২০১৭ সালে আরজেডি ও জেডিইউ-র হাত ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সম্রাট চৌধুরীর এই উত্থানকে বিহারের রাজনীতিতে বড়সড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে। শপথের আগে আবেগঘন এক বার্তায় সম্রাট বলেন, “এটি কেবল একটি পদ নয়, বরং বিহারের মানুষের সেবা করার এক মহান সুযোগ।” তবে সম্রাটকে ঘিরে উল্লাসের মাঝেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কে হচ্ছেন তাঁর ডেপুটি? নীতীশ কুমারের ছেলে নিশান্ত কুমারকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী করার জল্পনা তুঙ্গে থাকলেও, নিশান্ত আপাতত সরাসরি ক্ষমতার বদলে দলীয় সংগঠনে মন দিতে চাইছেন বলে জানা গেছে। তবে জেডিইউ-র একটি বড় অংশ তাঁকে রাজি করাতে মরিয়া।
সম্রাট চৌধুরীর পাশাপাশি আজ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বিজেন্দ্র প্রসাদ যাদব এবং বিজয় কুমার চৌধুরী। সূত্রের খবর, এই দু’জনের মধ্যেই কেউ উপ-মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন। নতুন মন্ত্রিসভায় বিজেপি ও জেডিইউ কোটা থেকে একাধিক নতুন ও অভিজ্ঞ মুখের ভারসাম্য রাখা হয়েছে। বিজেপি থেকে বিজয় কুমার সিনহা, মঙ্গল পাণ্ডে ও শ্রেয়সী সিংয়ের মতো নামগুলো যেমন আলোচনায় রয়েছে, তেমনই জেডিইউ থেকে অশোক চৌধুরী ও লেসি সিংদের নামও চূড়ান্ত তালিকায় থাকার সম্ভাবনা প্রবল। এনডিএ-র সহযোগী দল হাম (HAM) এবং এলজেপিআর (LJPR)-এর প্রতিনিধিদেরও মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়ে জাতিগত সমীকরণ বজায় রাখতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব।





