নো-ম্যানস ল্যান্ড’ থেকে বুথ পর্যন্ত সফর! অধিকার মিললেও অন্ধকারেই দিন কাটছে হলদিবাড়ির ক্যাম্পবাসীর

ইতিহাসের অভিশপ্ত ‘নো-ম্যানস ল্যান্ড’ থেকে বেরিয়ে আজ তাঁরা গণতান্ত্রিক ভারতের গর্বিত নাগরিক। হাতে এসেছে ভোটার কার্ড, তালিকায় উঠেছে নাম। কিন্তু এই প্রাপ্তির আনন্দের মাঝেই বিষাদের সুর সাবেক ছিটমহলবাসীদের কণ্ঠে। ২০১৫-র ঐতিহাসিক চুক্তির পর পরিচয় মিললেও, আজও অন্ধকারের ঘেরাটোপে কাটছে তাঁদের দিন। SIR (চূড়ান্ত ভোটার তালিকা) প্রকাশের পর প্রথম বিধানসভা ভোটকে কেন্দ্র করে এখন জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারের পুনর্বাসন ক্যাম্পগুলোতে চলছে আশা-হতাশার দ্বৈরথ।

২০১৫ সালে ভারত-বাংলাদেশ ভূমি সীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে কোচবিহারের হলদিবাড়ি, মেখলিগঞ্জ ও দিনহাটায় আশ্রয় পেয়েছিলেন ৯০১ জন মানুষ। সরকারি উদ্যোগে তৈরি হয়েছে ফ্ল্যাটবাড়ি, মিলেছে আধার ও রেশন কার্ড। কিন্তু হলদিবাড়ি পুনর্বাসন ক্যাম্পের বাসিন্দা সুশীল রায়ের আক্ষেপ, “ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে ঠিকই, কিন্তু আড়াই বছর ধরে ক্যাম্পে আলো নেই। মৌলিক চাহিদাই যদি পূরণ না হয়, তবে এই পরিচয়ের পূর্ণতা কোথায়?” নতুন প্রজন্মের দাবি আরও জোরালো। নবীন রায়ের মতো যুবকরা এখন স্রেফ অধিকার নয়, চাইছেন কর্মসংস্থান। তাঁদের কাছে এই ভোট ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা পাওয়ার লড়াই।

অন্যদিকে, প্রবীণদের কণ্ঠে শুধুই শান্তির প্রার্থনা। দিনহরি বর্মনের কথায়, “অনেক অনিশ্চয়তা পেরিয়েছি, এখন শুধু শান্তিতে ভোট দিতে চাই।” তবে অশ্বীনা রায়ের মতো কেউ কেউ আবার সরকারি প্রতিশ্রুতির ওপর বিশ্বাস হারিয়েছেন। তাঁদের মতে, লড়াই করেই বাঁচতে হবে। জয়হরি বর্মনের দাবি, “আমরা ট্রাভেল কার্ড নিয়ে বৈধভাবে এসেছি, পরিচয় পাওয়া আমাদের অধিকার। কিন্তু সেই অধিকারের সঙ্গে সুযোগ-সুবিধাও তো মেলা উচিত।” ২০২৬-এর এই নির্বাচন সাবেক ছিটমহলবাসীদের কাছে স্রেফ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং তাঁদের মর্যাদার লড়াই। ব্যালট বাক্সে জমা পড়া তাঁদের প্রতিটি ভোট আসলে দীর্ঘ বঞ্চনার অন্ধকার

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy