মালদার মোথাবাড়ি বিডিও অফিস ঘেরাও এবং বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য হাতে এল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ-র (NIA)। কলকাতার বিশেষ এনআইএ আদালতে জমা দেওয়া রিপোর্টে তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, গত ১ এপ্রিলের সেই শিউরে ওঠা ঘটনা কোনও স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ ছিল না; বরং তা ছিল অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং পূর্বপরিকল্পিত এক ষড়যন্ত্র।
NIA রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য:
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, সেদিন বিডিও অফিসের বেরনোর সমস্ত পথ ইচ্ছাকৃতভাবে অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। যার ফলে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ভিতরে আটকে থাকেন ৩ মহিলা বিচারকসহ মোট ৭ জন আধিকারিক। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, শেষে বিশাল পুলিশবাহিনী দিয়ে তাঁদের উদ্ধার করতে হয়।
ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কারা? এনআইএ-র নিশানায় প্রভাবশালীরা:
কংগ্রেস প্রার্থী সায়েম চৌধুরী: এনআইএ-র দাবি, এই বিক্ষোভের মূলে ছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী সায়েম চৌধুরী। তাঁর নেতৃত্বেই পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলা হয়।
আইএসএফ নেতা গোলাম রব্বানি: রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, পঞ্চায়েত সদস্য গোলাম রব্বানি ভয় দেখিয়ে এবং হুমকি দিয়ে বাইরে থেকে লোক জোগাড় করেছিলেন।
আসিফ শেখ: ধৃত এই কংগ্রেস কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিডিও অফিসের প্রধান ফটক আটকে রেখে প্রশাসনিক কাজে বাধা দেন।
‘ডিলিটেড ভোটার’ ও বিএলও-দের ব্যবহার:
তদন্তে উঠে এসেছে এক গভীর চাল। বিক্ষোভকে দীর্ঘস্থায়ী করতে পরিকল্পিতভাবে বেশ কিছু ‘ডিলিটেড ভোটার’ (যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে) এবং এমনকি নির্বাচনী কাজের সাথে যুক্ত বিএলও-দেরও (BLO) জোর করে বিক্ষোভে শামিল করা হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল একটাই— প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত করা এবং আতঙ্ক ছড়ানো।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল মালদার মোথাবাড়িতে ভোটার তালিকায় অসঙ্গতির অভিযোগে শুরু হয় বিক্ষোভ। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করে এবং নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয় সিবিআই বা এনআইএ-র হাতে তদন্তভার তুলে দিতে। সেই নির্দেশ মেনেই এখন তদন্ত চালাচ্ছে এনআইএ।
উপসংহার: এনআইএ-র এই রিপোর্টের পর মালদার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পথে এগোচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। পরবর্তী শুনানিতে আর কী কী নাম সামনে আসে, এখন সেটাই দেখার।





