অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। হুগলি জেলাজুড়ে এবার চালু হচ্ছে ‘ডবল লেয়ার আইডেন্টিফিকেশন’ বা দ্বি-স্তরীয় ভোটার যাচাই প্রক্রিয়া। সোমবার হুগলি জেলাশাসকের দপ্তরে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকের পর এই কড়া বার্তার কথা জানানো হয়েছে।
কী এই ‘ডবল লেয়ার আইডেন্টিফিকেশন’? এবার আর সরাসরি বুথে ঢোকা যাবে না। বুথের প্রবেশের মুখেই থাকবে বিশেষ ‘ভোটার চিহ্নিতকরণ টিম’। সেখানে বিএলও-রা (BLO) ভোটারদের পরিচয় খুঁটিয়ে পরীক্ষা করবেন। বিএলও-র সবুজ সংকেত মিললেই কেবল বুথের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি পাবেন ভোটাররা। এর ফলে ভুয়ো ভোটার বা প্রক্সি দেওয়ার চেষ্টা গোড়াতেই রুখে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে কমিশন।
নিরাপত্তার চাদরে জেলা: হুগলি জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি এবং চন্দননগর ও গ্রামীণ পুলিশের শীর্ষ কর্তারা জানিয়েছেন:
কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাপট: বর্তমানে ৪৬ কোম্পানি বাহিনী থাকলেও ভোটের দিন মোতায়েন থাকবে অন্তত ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।
ক্যামেরায় নজরদারি: প্রতিটি বুথের ভেতরে ও বাইরে থাকবে ওয়েবকাস্টিং ক্যামেরা। কোনো অশান্তি বা ছাপ্পার চেষ্টা হলে সরাসরি দিল্লি ও কলকাতা থেকে নজরদারি চলবে।
মোবাইল নিষিদ্ধ: বুথের ভেতরে কোনোভাবেই ভোটাররা মোবাইল ফোন নিয়ে ঢুকতে পারবেন না।
মদ ও নগদ উদ্ধারে রেকর্ড: নির্বাচনী বিধি লাগু হওয়ার পর থেকেই পুলিশি তৎপরতা তুঙ্গে। বৈঠকে জানানো হয়েছে:
এখনও পর্যন্ত ১৬ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকার বেআইনি মদ আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গুর ও চণ্ডীতলা এলাকা থেকেই মিলেছে ৮ কোটি টাকার মদ।
চন্দননগর এলাকায় প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার গাঁজা এবং চুঁচুড়া ফেরিঘাট থেকে নগদ ৯৬ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে।
বিশেষ সুযোগ সুবিধায় জোর: জেলায় মোট ৫৩৮৭টি বুথ রয়েছে। প্রতিটি বিধানসভায় একটি করে মডেল বুথ এবং একাধিক মহিলা পরিচালিত বুথ থাকবে। এছাড়া ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে থাকা প্রবীণ এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য ‘ভোট ফ্রম হোম’ বা বাড়ি গিয়ে ভোট নেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে।
প্রশাসনের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি— নাকা চেকিং থেকে শুরু করে দুষ্কৃতী দমন, সবক্ষেত্রেই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন কোনো রকম হিংসা বা কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না।





