নয়ডার শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভ এখন উত্তরপ্রদেশের রাজনীতির প্রধান রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই আন্দোলনকে রাজ্যের উন্নয়ন রুখতে একটি গভীর ‘ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, অন্যদিকে বিরোধী নেতা অখিলেশ যাদব পাল্টা আক্রমণে সরব হয়ে সরকারকে পদত্যাগের পরামর্শ দিয়েছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তড়িঘড়ি একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার।
যোগীর ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও কড়া বার্তা: সোমবার মুজাফফরনগরে ৯৫১ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের শিলান্যাস করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সাফ জানান, উত্তরপ্রদেশ যখন সুশাসনের মডেলে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন কিছু অশুভ শক্তি অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “আমাদের সরকার শ্রমিকদের পাশে আছে। উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা এবং শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার।” তিনি আরও জানান, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে গঠিত কর্পোরেশনের সুপারিশগুলো এই মাসেই কার্যকর হবে। শ্রমিকদের প্ররোচনায় পা না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অখিলেশের তীক্ষ্ণ আক্রমণ: মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে লেখেন, “শ্রমিকদের ক্ষত যদি সারিয়ে তুলতে না পারেন, তবে অন্তত তাদের কাটা ঘায়ে নুন ছিটাবেন না।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি এটি ষড়যন্ত্রই হয়, তবে রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগ কী করছিল? তারা কি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভিনরাজ্যে প্রচারে ব্যস্ত ছিল? আন্দোলনকে ‘নকশালবাদ’ বলে দেগে দেওয়ার চেষ্টার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, বিজেপির দুর্নীতির জেরে শ্রমিক পরিবারগুলো নাজেহাল। সরকার চালাতে না পারলে যোগীর পদত্যাগ করা উচিত।
উচ্চপর্যায়ের কমিটি ও বর্তমান পরিস্থিতি: নয়ডার শিল্পাঞ্চলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই উত্তেজনা প্রশমনে এবং শ্রমিক-শিল্পপতিদের মধ্যে সংলাপ শুরু করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিলেও নয়ডার বিস্তীর্ণ এলাকায় থমথমে ভাব বজায় রয়েছে।





