২০২৬-এর হাইভোল্টেজ নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গের মাটি কামড়ে প্রচারে নেমেছে বিজেপি। সোমবার হেমতাবাদের ‘বিজয় সংকল্প সভা’য় দাঁড়িয়ে নির্বাচনী জনসভায় রীতিমতো ঝড় তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তাঁর ভাষণের একটি বিশেষ অংশ ঘিরে জনসভায় উপস্থিত কর্মীদের মধ্যে দেখা দেয় অভূতপূর্ব উদ্দীপনা। শুভেন্দুর আশ্বাস, “এখন পাচ্ছেন ২,২,২, জুন থেকে পাবেন ৩,৩,৩!”
শুভেন্দুর এই গাণিতিক সংকেতের অর্থ কী? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারী আদতে তৃণমূলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বনাম বিজেপির প্রস্তাবিত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের তুলনা টেনেছেন। বর্তমানে তফশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ১২০০ টাকা পান। শুভেন্দু ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে সেই টাকার অঙ্ক বেড়ে দাঁড়াবে ৩০০০ টাকায়। তাঁর কথায়, জুন মাসে নির্বাচনী ফল ঘোষণার পরই বাংলার মায়েরা এই বর্ধিত সুবিধা পাবেন।
হেমতাবাদের সভায় আক্রমণাত্মক শুভেন্দু: এদিন ভাষণে শুভেন্দু অধিকারী শুধু প্রকল্পের ঘোষণা নয়, কড়া ভাষায় বিঁধেছেন শাসকদল তৃণমূলকেও। তিনি বলেন, “তৃণমূল ভয় দেখিয়ে বা কিস্তিতে টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চাইছে। কিন্তু মানুষ বুঝে গেছে আসল উন্নয়ন কোথায়। জুন মাস থেকেই রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার আসবে এবং প্রতিটি ঘরে অন্নপূর্ণার আশীর্বাদ পৌঁছাবে।”
কর্মী মহলে উচ্ছ্বাস: শুভেন্দু যখনই ‘৩,৩,৩’ (অর্থাৎ ৩০০০ টাকা) পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন, তখনই গোটা সভাস্থল হাততালিতে ফেটে পড়ে। উত্তরবঙ্গের এই এলাকায় মহিলাদের ভোটব্যাঙ্ক টানতে বিজেপির এই মাস্টারস্ট্রোক কতটা কাজ করবে, তা নিয়ে এখন চর্চা তুঙ্গে।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: পালটা দিতে ছাড়েনি শাসকদলও। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, শুভেন্দু অধিকারী মানুষকে আকাশকুসুম স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। তাঁদের প্রশ্ন, বিজেপি শাসিত অন্য রাজ্যগুলোতে কেন এই ধরণের ভাতা দেওয়া হচ্ছে না?
ভোটের লড়াই যত এগোচ্ছে, ততই প্রকল্পের টাকা আর তারিখ নিয়ে রাজনীতির পারদ চড়ছে। শুভেন্দুর এই ‘জুন মাসের ডেডলাইন’ কি সত্যিই সফল হবে? উত্তর দেবে সময়।





