মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন আরও ভয়াবহ রূপ নিল। দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লার ডেরায় ঢুকে নজিরবিহীন অভিযান চালাল ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF)। সোমবার আইডিএফ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত এক সপ্তাহের লড়াইয়ে অন্তত ১০০ জন হিজবুল্লা যোদ্ধাকে খতম করা হয়েছে। বিমান হামলা এবং সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষে এই বিপুল সংখ্যক জঙ্গি নিকেশ হওয়ায় রীতিমতো ব্যাকফুটে ইরান-ঘনিষ্ঠ এই গোষ্ঠীটি।
IDF-এর ঝোড়ো অভিযান: বিনত জবেইল এখন রণক্ষেত্র
ইজরায়েলি সেনার ৯৮তম ডিভিশনের প্যারাট্রুপার, কমান্ডো এবং গিভাতি ব্রিগেডের জওয়ানরা বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের বিনত জবেইল এলাকা ঘিরে ফেলেছে। আইডিএফ-এর দাবি অনুযায়ী:
জঙ্গি নিধন: মুখোমুখি লড়াই এবং নিখুঁত বিমান হামলায় ১০০-র বেশি হিজবুল্লা জঙ্গিকে খতম করা হয়েছে।
অস্ত্র উদ্ধার: সাধারণ মানুষের বসতির আড়ালে লুকিয়ে রাখা শত শত রাইফেল, গ্রেনেড ও রকেট উদ্ধার করেছে সেনারা।
সুড়ঙ্গ ধ্বংস: ইজরায়েলে অনুপ্রবেশের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ খুঁজে পেয়ে তা ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
পাল্টা মরণকামড় হিজবুল্লার: এক দিনে ৪৩টি হামলা!
ইজরায়েলি অভিযানের মুখে হাত গুটিয়ে বসে নেই হিজবুল্লাও। ইরানের সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’র রিপোর্ট অনুযায়ী, রবিবার এক দিনেই ইজরায়েলি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ৪৩টি সামরিক অভিযান চালিয়েছে তারা।
ড্রোন হামলা: গোলান হাইটসের কমিউনিকেশন সেন্টার এবং ইজরায়েলি মেরকাভা ট্যাঙ্ক লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
রকেট বৃষ্টি: নাহারিয়া এবং কিরিয়াত শমোনা-সহ উত্তর ইজরায়েলের একাধিক শহরে রকেট হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লা।
দাবি: হিজবুল্লার দাবি, ইজরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে হামলা চালাচ্ছে বলেই তারা এই পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
ভয়ঙ্কর পরিণতির দিকে মধ্যপ্রাচ্য?
দক্ষিণ লেবাননের মেস আল-জাবাল এলাকার একটি হাসপাতালের কাছেও সংঘর্ষের খবর মিলেছে। সাধারণ মানুষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, যেভাবে দুই পক্ষই সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে, তাতে এই সংঘাত অচিরেই একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিতে পারে।





