বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আগে কর্মসংস্থান ও ভাতা নিয়ে শুরু হলো নজিরবিহীন রাজনৈতিক দড়িটানাটানি। বিজেপির ‘সংকল্প পত্রে’ বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, যা বর্তমান ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের প্রায় দ্বিগুণ। এছাড়াও আগামী ৫ বছরে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতার স্বপ্ন দেখিয়েছে গেরুয়া শিবির।
অমিত শাহের এই মেগা ঘোষণাকে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়ে খণ্ডঘোষের সভা থেকে পাল্টা তোপ দেগেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ কথা, “বিজেপি যেটা বলে সেটা করে না। বছরে ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েও একটা শূন্যপদ পূরণ করেনি রেল বা ডিফেন্সে।” মমতার দাবি, বাংলায় তাঁর সরকার ২ কোটি মানুষের কাজের ব্যবস্থা করেছে এবং বেকারত্বের হার ৪০% কমিয়ে দেখিয়েছে।
ভাতার লড়াই গড়িয়েছে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ পর্যন্তও। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই প্রকল্পের টাকা দ্বিগুণ করার পাশাপাশি মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাত্রা ও চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একে ‘টুকলি’ বলে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “ভোটের সময় এরা ঘুষ দেয়, তারপর উধাও হয়ে যায়।” উল্লেখ্য, তৃণমূল সরকার ইতিমধ্য়েই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বাড়িয়ে ১,৫০০ ও ১,৭০০ টাকা করেছে। এখন প্রশ্ন হলো, ভোটাররা কি শাহের নতুন প্রতিশ্রুতিতে ভরসা রাখবেন নাকি মমতার ‘পরীক্ষিত’ উন্নয়নের পক্ষে রায় দেবেন?





