“আসছে গ্যাসের চরম সঙ্কট!”-LPG ভুলে দেশ কি ঝুঁকছে ইন্ডাকশন কুকিংয়ে? বিদ্যুতের চাহিদা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ছে ভারতের আমজনতার হেঁশেলে। ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে এলপিজি (LPG) সরবরাহে বড়সড় ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর এই সঙ্কটের মোকাবিলায় দেশজুড়ে রান্নার অভ্যাসে আমূল বদল আসার ইঙ্গিত মিলছে।

LPG সঙ্কটের মুখে ভারত

ভারত তার মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশ আনে ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে। যুদ্ধের কারণে এই পথটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যুরো অফ এনার্জি এফিসিয়েন্সি-র ডিরেক্টর জেনারেল কৃষ্ণচন্দ্র পানিগ্রাহী জানিয়েছেন, গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে মানুষ এখন ইন্ডাকশন বা ইলেকট্রিক উনুনের দিকে ঝুঁকছে। এর ফলে দেশে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা ১৩ গিগাওয়াট থেকে ২৭ গিগাওয়াট পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে বড় প্রস্তুতি

পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে নেমেছে:

  • রক্ষণাবেক্ষণ স্থগিত: বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ১০ গিগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের কাজ তিন মাসের জন্য পিছিয়ে দিয়েছে বিদ্যুৎ মন্ত্রক।

  • নতুন উৎপাদন: এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে সরকার অতিরিক্ত ২২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ও তাপবিদ্যুৎ অন্যতম।

  • গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ: গ্যাস ভিত্তিক কেন্দ্রগুলিকে নিজস্ব উপায়ে এলএনজি (LNG) আমদানির ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

সরকারের অগ্রাধিকার: জ্বালানি নিরাপত্তা

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, ভারতের অগ্রাধিকার এখন অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা মেটানো। রাশিয়া, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে বিকল্প উপায়ে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এমনকি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বা তেলের জরুরি মজুত বাড়ানোর বিষয়টিতেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

উপসংহার

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বছর ভারতের সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা ২৭১ গিগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। যুদ্ধের মেঘ না কাটলে এলপিজি-র জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার চেয়ে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতাই হতে চলেছে আগামী দিনের বাস্তবতা। তবে প্রশ্ন একটাই— বাড়তি লোড সামলানোর মতো পরিকাঠামো কি প্রস্তুত?

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy