সংসদের বিশেষ অধিবেশন এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে যখন দেশজুড়ে সাজ সাজ রব, ঠিক তখনই কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস সংসদীয় দলের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। একটি জাতীয় সংবাদপত্রে নিবন্ধ লিখে তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকারের এই তৎপরতার আসল উদ্দেশ্য মহিলাদের ক্ষমতায়ন নয়, বরং এর আড়ালে লুকিয়ে আছে ‘ডিলিমিটেশন’ বা লোকসভা কেন্দ্রের পুনর্বিন্যাসের এক ‘বিপজ্জনক’ অভিসন্ধি।
সংবিধানের ওপর আক্রমণ!
সোনিয়া গান্ধীর মতে, সরকার যেভাবে আসন পুনর্বিন্যাস করতে চাইছে, তা সংবিধানের ওপর সরাসরি আঘাত। তাঁর দাবি, লোকসভার শক্তি বাড়ানোর নামে যদি কেবল জনসংখ্যার অঙ্কের ওপর ভিত্তি করে ডিলিমিটেশন করা হয়, তবে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যারা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, আসন সংখ্যা কমে যাওয়ার ভয়ে তারা এখন শঙ্কিত। সোনিয়া সতর্ক করে বলেছেন, এর ফলে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে।
“প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য আসলে কী?”
কংগ্রেস নেত্রীর নিবন্ধে উঠে এসেছে একাধিক তীক্ষ্ণ প্রশ্ন:
জনগণনা নিয়ে ধোঁয়াশা: সোনিয়ার অভিযোগ, মোদী সরকার আসলে জাতিগত জনগণনা বা ‘কাস্ট সেন্সাস’ প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করে বেলাইন করতে চাইছে।
সংরক্ষণ কার্যকর করতে দেরি কেন: ২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ পাশের সময় শর্ত রাখা হয়েছিল যে, পরবর্তী জনগণনা ও ডিলিমিটেশনের পরেই সংরক্ষণ মিলবে। সোনিয়ার প্রশ্ন, কেন ২০২৪ থেকেই এটি চালু করা হলো না?
৩০ মাসের রহস্য: ২০২৯ থেকে সংরক্ষণ চালুর যে ‘ইউ-টার্ন’ প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন, তা নিয়ে সোনিয়া প্রশ্ন তুলেছেন— “এই বোধোদয় হতে কেন ৩০ মাস সময় লাগল?”
বিরোধীদের ওপর বিল ‘বুলডোজ’ করার চেষ্টা?
পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এই বিশেষ অধিবেশন ডাকার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সোনিয়া। তাঁর দাবি, বিরোধী পক্ষকে চাপে ফেলে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই সরকার তড়িঘড়ি বিল ‘বুলডোজ’ করার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী সত্য গোপন করছেন বলেও তিনি তোপ দাগেন।
মায়ের পাশে রাহুল
সোনিয়া গান্ধীর এই অবস্থানকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সোশ্যাল মিডিয়ায় (X) তিনি লিখেছেন, ডিলিমিটেশনের ফলে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে যে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে, তা নিয়ে সোনিয়া গান্ধী সঠিকভাবেই সতর্ক করেছেন।
ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে ডিলিমিটেশন বরাবরই একটি স্পর্শকাতর বিষয়। সোনিয়ার এই আক্রমণ সেই পুরনো বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিল, যা ভোটের বাজারে বিজেপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।





