ভারতীয় রেলের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক অধ্যায় রচিত হলো গুজরাটের আহমেদাবাদে। আহমেদাবাদ-মুম্বাই বুলেট ট্রেন করিডোর নির্মাণে ব্যবহার করা হলো ২,২০০ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এক দানবীয় ‘ক্রলার ক্রেন’। এই ক্রেনটি এতটাই শক্তিশালী যে এটি অনায়াসেই ১৫০টি পূর্ণবয়স্ক হাতির সমান ওজন শূন্যে তুলে ধরতে সক্ষম।
সাড়ে তিন ঘণ্টার ‘ম্যাজিক’ অপারেশন
গুজরাটের মণিনগর-আহমেদাবাদ সেকশনে এই প্রকৌশলগত বিস্ময়টি চাক্ষুষ করেছেন শহরবাসী। বুলেট ট্রেন প্রকল্পের অধীনে একটি বিশাল প্রিকাস্ট আরসিসি পোর্টাল বিম স্থাপন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করে জানান:
প্রায় ১,৩৬০ মেট্রিক টন ওজনের গার্ডারটি মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টায় সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে।
পোর্টাল বিমটি ৩৪ মিটার দীর্ঘ এবং এম৫০ গ্রেডের কংক্রিট দিয়ে তৈরি, যা চরম স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।
১১০টি ট্রেলারে এল এই ‘বাহুবলী’ ক্রেন
এই বিশাল ক্রেনটিকে প্রকল্পের স্থানে নিয়ে আসতেই কালঘাম ছুটেছিল ইঞ্জিনিয়ারদের। প্রায় ১১০টি বড় ট্রেলারে করে ক্রেনটির বিভিন্ন অংশ নিয়ে আসা হয় এবং বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা ধাপে ধাপে এটি একত্রিত করেন। এতে রয়েছে অত্যাধুনিক ‘সুপার-লিফট’ প্রযুক্তি, যা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ভারী কাঠামো স্থাপন করতে পারে। কাজের নিরাপত্তার খাতিরে ওই এলাকায় কয়েক ঘণ্টার জন্য যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছিল।
কেন এই অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ?
মণিনগর এলাকাটি ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রাক্তন বিধানসভা কেন্দ্র। যে এলাকা একসময় তাঁর হাত ধরে উন্নয়নের পথে যাত্রা শুরু করেছিল, আজ সেই মণিনগরের বুক চিরে দৌড়বে দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন। রেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওল্ড রেলওয়ে কলোনি ও কাঁকরিয়া এলাকার মধ্য দিয়ে এই ট্র্যাক আহমেদাবাদ স্টেশন হয়ে সবরমতী মাল্টি-মোডাল ট্রানজিট হাবের দিকে এগিয়ে যাবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রকল্প প্রকৌশলী শৌর্য রাজা জানিয়েছেন, এটি কেবল শুরু। আগামী দিনগুলোতে প্রতি ছয় দিন অন্তর এমন আরও ১,০৭০ থেকে ১,১১০ টন ওজনের পোর্টাল বিম স্থাপন করা হবে। আধুনিক প্রযুক্তি এবং নিখুঁত পরিকল্পনার এই মেলবন্ধন ভারতকে বিশ্বের দরবারে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিচ্ছে।





