একসময়ের কংগ্রেসের অভেদ্য দুর্গ মালদায় কি আবারও ফিরছে ‘হাত’ শিবিরের দাপট? রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে এবার খোদ মালদার মাটিতে পা রাখতে চলেছেন কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা রাহুল গান্ধী। দীর্ঘ সাত বছর পর তাঁর এই সফরকে ঘিরে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে জেলাজুড়ে। আগামী ১৪ এপ্রিল চাঁচলের কলমবাগান মাঠে হতে চলেছে রাহুলের এই মেগা জনসভা।
লক্ষাধিক মানুষের জমায়েত, টার্গেট ৪ কেন্দ্র
রবিবার দুপুরে চাঁচলের কলমবাগান মাঠ পরিদর্শনে যান পুলিশ ও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। নিরাপত্তার বলয় থেকে শুরু করে অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরি— প্রস্তুতি চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। দলীয় সূত্রের খবর, এই সভায় অন্তত এক লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটবে। রাহুলের লক্ষ্য মালদার চারটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র:
মালতিপুর: প্রার্থী মৌসম নূরের সমর্থনে প্রচার।
চাঁচল: আসিফ মেহেববুবের পক্ষে জনসমর্থন আদায়।
হরিশ্চন্দ্রপুর: মোস্তাক আলমের হয়ে ব্যাট ধরবেন রাহুল।
রতুয়া: মোত্তাকিন আলমের সমর্থনে শক্তি প্রদর্শন।
বরকত গনি খানের স্মৃতি ও ‘একলা চলো’ নীতি
মালদার খান চৌধুরী পরিবারের সঙ্গে গান্ধী পরিবারের সখ্য দীর্ঘদিনের। প্রয়াত বরকত গনি খানের ‘খাসতালুক’ সুজাপুরেও রাহুলের সভা করার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল বা বাম, কোনো পক্ষের হাত না ধরে বাংলায় ‘একলা লড়াই’-এর কঠিন পথে হেঁটেছে কংগ্রেস। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাহুল গান্ধীর এই সফর কেবল প্রচার নয়, বরং রাজ্যে কংগ্রেসের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এবং হারানো জমি পুনরুদ্ধারের বড় পরীক্ষা।
“রাহুল গান্ধী চাঁচলের মাটি খুব ভালো করে চেনেন। তাঁকে ঘিরে মানুষের মধ্যে প্রবল আগ্রহ রয়েছে। এই সভা মালদার রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন বার্তা দেবে।” — ইন্দ্র নারায়ণ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক, মালদা জেলা কংগ্রেস।
নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হচ্ছে চাঁচল
সভাস্থলের নিরাপত্তায় কোনো খামতি রাখতে চাইছে না পুলিশ প্রশাসন। হেলিপ্যাড থেকে সভামঞ্চ পর্যন্ত কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের ঠিক পরেই রাহুলের এই পাল্টা সভা বাংলার নির্বাচনী উত্তাপকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





