“প্রেমিকাকে চাই, নইলে ঝাঁপ দেব!” সাতসকালে ৬০ ফুট উঁচুতে মরণঝাঁপের হুমকি, হুলুস্থুল পুরুলিয়ায়

১৯৭৫ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘শোলে’-র সেই দৃশ্য মনে আছে? যেখানে জলের ট্যাংকের ওপর চড়ে বসন্তীকে বিয়ে করার জন্য হুলুস্থুল কাণ্ড বাঁধিয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র ওরফে বীরু? ঠিক একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটল ২০২৬-এর পুরুলিয়ায়। তবে এবার প্রেক্ষাপট কোনো সিনেমার সেট নয়, বরং পুরুলিয়া শহরের অদূরে দুলমী এলাকা।

কী ঘটেছিল সাতসকালে? রবিবার সকালে দুলমী এলাকার বাসিন্দারা দেখতে পান, পুরুলিয়া পুরসভা পরিচালিত একটি ৬০ ফুট উঁচু জলের ট্যাংকের মাথায় চড়ে বসেছেন এক যুবক। নাম আব্বাস আনসারি (২৩)। সেখান থেকেই তিনি চিৎকার করে দাবি করতে থাকেন— তাঁর প্রেমিকাকে তাঁর হাতে তুলে দিতে হবে, নতুবা তিনি সেখান থেকে ঝাঁপ দিয়ে জীবন শেষ করে দেবেন।

৩ ঘণ্টার টানটান উত্তেজনা: ঘটনার খবর পেয়েই তড়িঘড়ি পৌঁছায় টামনা থানার পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। যুবকের বাবা ও ভাই বারবার অনুনয়-বিনয় করলেও আব্বাস ছিলেন নাছোড়বান্দা। কেউ তাঁকে নামাতে গেলেই ঝাঁপ দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন তিনি। প্রায় তিন-চার ঘণ্টা ধরে এই হাইভোল্টেজ ড্রামা চলতে থাকে।

উদ্ধার পর্ব: শেষে ত্রাতা হিসেবে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা আসিফ আনসারি। তিনি ফোনের মাধ্যমে আব্বাসের সঙ্গে কথা বলেন এবং দীর্ঘক্ষণ বোঝানোর পর তাঁকে রাজি করান। এরপর বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দুই সদস্য উপরে উঠে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আব্বাসকে নীচে নামিয়ে আনেন। শেষমেশ হাফ ছেড়ে বাঁচে পুলিশ প্রশাসন ও যুবকের পরিবার।

পুলিশের বয়ান: পুরুলিয়া জেলা পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি জানিয়েছেন, প্রেম সংক্রান্ত কারণেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন ওই যুবক। তবে যে মেয়েটির কথা যুবক বলছেন, তিনি একজন নাবালিকা। পুলিশ সুপার স্পষ্ট করেছেন, “আপাতত সতর্ক করে যুবককে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে নাবালিকার পরিবার যদি কোনো অভিযোগ দায়ের করে, তবে আইন অনুযায়ী মামলা রুজু করা হবে।”

ভোটের আবহে সাতসকালে এমন ‘শোলে’ মার্কা কাণ্ড দেখে কার্যত তাজ্জব দুলমীর বাসিন্দারা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy