৩০০০ বনাম ১৫০০! জুন মাস থেকেই কি মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে বড় অঙ্ক? জেনে নিন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের খুঁটিনাটি

২০২৬ সালের বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে এবার রাজ্যের মহিলা ভোটাররা। তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের বিপুল সাফল্যের পর এবার তার পাল্টা হিসেবে বড় দাও মারল গেরুয়া শিবির। বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহার বা ‘সংকল্প পত্রে’ ঘোষণা করা হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের কথা, যা টাকার অঙ্কে বর্তমান লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার বনাম লক্ষ্মীর ভাণ্ডার: এক নজরে পার্থক্য

বৈশিষ্ট্যলক্ষ্মীর ভাণ্ডার (তৃণমূল)অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (বিজেপি প্রতিশ্রুতি)
মাসিক টাকাসাধারণ: ১৫০০ টাকা, SC/ST: ১৭০০ টাকাসকলের জন্য ৩০০০ টাকা
স্থিতিবর্তমানে চালু রয়েছেমে-তে সরকার গড়লে জুন থেকে চালুর প্রতিশ্রুতি
লক্ষ্যরাজ্যের মহিলা ভোটারদের আর্থিক সাহায্যমহিলা ভোটের মেরুকরণে তৃণমূলকে টেক্কা দেওয়া

কেন এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার?

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২১ সালে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প তৃণমূলের জয়ের পিছনে বড় ভূমিকা নিয়েছিল। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পের টাকা বাড়িয়েছিলেন। এবার ২০২৬-এর লড়াইয়ে বিজেপি সরাসরি ৩০০০ টাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাজিমাত করতে চাইছে। সুকান্ত মজুমদার ও শুভেন্দু অধিকারীদের দাবি, এই প্রকল্প সর্বস্তরের মহিলাদের জন্য হবে এবং টাকার অঙ্কে এটি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দ্বিগুণ।

বিজেপির ‘দিল্লি-বিহার’ মডেল বাংলায়?

দিল্লি এবং বিহারেও মহিলাদের জন্য অনুরূপ আর্থিক প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাফল্য পেয়েছিল বিজেপি। এবার সেই একই মডেল বাংলা এবং কেরালায় প্রয়োগ করতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদী। বিজেপির দাবি, জুনের শুরু থেকেই মহিলারা সরাসরি ব্যাঙ্কে ৩০০০ টাকা করে পাবেন, যদি বঙ্গে সরকার পরিবর্তন হয়।

তৃণমূলের পাল্টা কৌশল

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসও বসে নেই। ইতিমধ্যেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বর্ধিত টাকা (১৫০০ ও ১৭০০) গত মার্চ মাস থেকে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, মানুষ প্রতিশ্রুতির চেয়ে প্রাপ্তিতে বেশি বিশ্বাসী।

উপসংহার:

বাংলার মসনদ কার দখলে যাবে, তা নির্ধারণে মহিলা ভোটারদের ভূমিকা হবে অনস্বীকার্য। ১৫০০ টাকার ‘লক্ষ্মী’ না কি ৩০০০ টাকার ‘অন্নপূর্ণা’— বাংলার মেয়েরা কোন দিকে ঝুঁকবেন, তার উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে ভোটের ফলাফলে।