আলুচাষিদের সুরক্ষা আর ২ কোটি কর্মসংস্থান! বর্ধমানের মাটি থেকে দিল্লির সরকারকে তুলোধোনা তৃণমূল নেত্রীর

বিধানসভা নির্বাচনের আগে মেগা রবিবারে সরগরম পূর্ব বর্ধমান। খণ্ডঘোষের জনসভা থেকে কর্মসংস্থান ও কৃষকদের স্বার্থ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে এক হাত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যখন বাংলার বেকারত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, ঠিক তখনই পাল্টা পরিসংখ্যান দিয়ে দিল্লিকে বিঁধলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

চাকরি নিয়ে মোদীকে তোপ কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরির প্রতিশ্রুতি নিয়ে আক্রমণ শানিয়ে মমতা বলেন, “তোমরা বলেছিলে বছরে ২ কোটি মানুষের চাকরি দেবে, কিন্তু বাস্তবে একটি চাকরিও দিতে পারোনি।” এখানেই থেমে না থেকে তিনি প্রতিরক্ষা (Defence) ও রেলের শূন্যপদ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, রেলে গ্যাংম্যানের মতো জরুরি পদও দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। মোদীকে লক্ষ্য করে তাঁর সরাসরি প্রশ্ন— “তোমার ডিফেন্সে কটা লোক নিয়েছ?”

বাংলার সাফল্যের পরিসংখ্যান পাল্টা রাজ্যের উন্নয়নের খতিয়ান দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন:

  • ২ কোটি কর্মসংস্থান: তাঁর শাসনকালে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

  • বেকারত্ব হ্রাস: রাজ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।

  • কৃষক সুরক্ষা: খণ্ডঘোষের মতো কৃষিপ্রধান এলাকায় আলুচাষিদের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাজ্য সরকারই করেছে।

তোষণ বনাম উন্নয়ন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব যখনই রাজ্যে আসছেন, তখনই তাঁদের নিশানায় থাকছে কর্মসংস্থান। কিন্তু খণ্ডঘোষের মঞ্চ থেকে মমতা স্পষ্ট করে দিলেন, বড় বড় প্রতিশ্রুতির বদলে তাঁর সরকার বাস্তবিক কাজ করায় বিশ্বাসী। কৃষি ও শিল্পের মেলবন্ধনে বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্য।

ভোটের আগে খণ্ডঘোষের এই সভা থেকে মমতার দেওয়া ‘চাকরি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’ সাধারণ মানুষের মধ্যে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy