ভোটের উত্তাপের মাঝেই এবার বাংলায় ঢুকে পড়ল ‘আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স’ বা এআই (AI) বিতর্ক। শনিবার জঙ্গিপুরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভুয়ো ভিডিও নিয়ে রাজ্যবাসীকে সতর্ক করতেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তৃণমূল পরাজয় নিশ্চিত জেনে এআই-এর মাধ্যমে ভুয়ো ভিডিও বানিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চক্রান্ত করছে। কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা তোপ দেগেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
মমতার ‘আমোদী-কুমোদী’ কটাক্ষ
খণ্ডঘোষের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে বলেন:
“একটা পার্টিকে ভাগ করতে, হিন্দু-মুসলমান করতে ১০০০ কোটি টাকার ডিল করেছ। তার জন্য আমোদী-কুমোদী বাবুকে রাস্তায় নামতে হয়েছে! আপনি বলছেন আর্টিফিসিয়াল? যে করেছে সে বলছে ভিডিওটা সত্য। কত আর শাক দিয়ে মাছ ঢাকবেন?”
কী রয়েছে সেই ‘বিস্ফোরক’ ভিডিওতে?
তৃণমূলের দাবি, একটি ভাইরাল ভিডিওতে তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীরকে দাবি করতে দেখা গেছে যে, বিজেপি তাঁকে ১০০০ কোটি টাকা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, শুভেন্দু অধিকারী ও হিমন্ত বিশ্ব শর্মাদের সাথে যোগসাজশ করে তিনি বাংলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। তৃণমূলের অভিযোগ, এই ভিডিওর অস্বস্তি কাটাতেই প্রধানমন্ত্রী ‘এআই’-এর অজুহাত খাড়া করে হুমায়ুনকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন।
হুমায়ুনের ডিগবাজি: ধোঁয়াশা বাড়ছে
শুক্রবার যে ভিডিওটিকে হুমায়ুন কবীর ‘এআই নির্মিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, শনিবার তাঁর সুর কিছুটা বদলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো ছবি দেখিয়ে তিনি পালটা আক্রমণ শানিয়ে বলেন:
এটি ৫১ মিনিট ৯ সেকেন্ডের ভিডিও, যার মাত্র ১৯ মিনিট ১৪ সেকেন্ড দেখানো হচ্ছে।
তিনি পুরো ভিডিও প্রকাশ করবেন এবং হাইকোর্টে মামলা করছেন।
হুমায়ুনের এই স্ববিরোধী মন্তব্যে নতুন প্রশ্ন তুলেছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের প্রশ্ন— ভিডিওটি যদি এআই-ই হবে, তবে ১৯ মিনিটের ফুটেজ নিয়ে কথা কেন? তবে কি আদতেই কোনো ‘গোপন সমঝোতা’র পর্দা ফাঁস হতে চলেছে?
ভোটের মুখে এই ‘ভিডিও-যুদ্ধ’ এবং মোদী-মমতার সরাসরি সংঘাত বাংলার নির্বাচনকে এক নতুন মোড় দিল।





