প্রস্রাব বা মূত্রের মাধ্যমে আমাদের শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থ বেরিয়ে যায়। সাধারণত প্রস্রাবের খুব হালকা একটি গন্ধ থাকে, যা অস্বস্তিকর নয়। কিন্তু যদি দেখেন আপনার প্রস্রাবে হঠাৎ করে খুব তীব্র বা ঝাঁঝালো গন্ধ হচ্ছে এবং তা কয়েক দিন ধরে স্থায়ী হচ্ছে—তবে সময় এসেছে সাবধান হওয়ার। চিকিৎসকদের মতে, প্রস্রাবের দুর্গন্ধ স্রেফ জল কম খাওয়ার ফল নয়, বরং এটি একাধিক কঠিন রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
কেন প্রস্রাবে দুর্গন্ধ হয়? এর পেছনে লুকিয়ে থাকা ৫টি প্রধান কারণ দেখে নিন:
১. ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI)
প্রস্রাবে দুর্গন্ধ হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো সংক্রমণ বা ইউটিআই। যখন মূত্রনালীতে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে, তখন প্রস্রাবের রঙের পরিবর্তনের পাশাপাশি অত্যন্ত কড়া এবং পচা গন্ধ হতে পারে। এর সাথে প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।
২. ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্ত শর্করা
আপনার প্রস্রাব থেকে যদি মিষ্টি বা ফলের মতো কোনো গন্ধ (Sweet/Fruity smell) আসে, তবে দেরি না করে সুগার পরীক্ষা করান। রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে শরীর অতিরিক্ত চিনি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করার চেষ্টা করে, যার ফলে এই বিশেষ ধরণের গন্ধ তৈরি হয়।
৩. কিডনিতে পাথর বা সংক্রমণ
কিডনি যদি রক্ত ঠিকমতো পরিশ্রুত করতে না পারে, তবে প্রস্রাবে বর্জ্যের পরিমাণ বেড়ে যায়। কিডনিতে পাথর বা ইনফেকশন হলে প্রস্রাবে অ্যামোনিয়ার মতো তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ হতে পারে। এর সাথে পিঠের নিচে বা কোমরের পাশে ব্যথা থাকলে দ্রুত ডাক্তার দেখান।
৪. লিভারের সমস্যা
লিভারের কোনো জটিলতা বা ইনফেকশন থাকলে প্রস্রাবে কালচে ভাব আসার পাশাপাশি তীব্র দুর্গন্ধ হতে পারে। লিভার সঠিকভাবে টক্সিন পরিষ্কার করতে না পারার কারণে প্রস্রাবের গন্ধে এই পরিবর্তন আসে।
৫. ডিহাইড্রেশন বা জলের অভাব
এটি কোনো রোগ নয়, তবে রোগের মূল কারণ। শরীরে জল কম হলে প্রস্রাব অত্যন্ত ঘন হয়ে যায় এবং অ্যামোনিয়ার মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে প্রস্রাব গাঢ় হলুদ দেখায় এবং তীব্র গন্ধ ছড়ায়।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি দুর্গন্ধের সাথে প্রস্রাবে রক্ত দেখা যায়।
যদি প্রস্রাব ঘোলাটে বা ফেনা যুক্ত হয়।
যদি তলপেটে বা কোমরে অসহ্য ব্যথা থাকে।
যদি প্রস্রাবের গতির সাথে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে।





