. ১৯৭৯-এর পর প্রথমবার! ইরানিদের মুখোমুখি হতে ইসলামাবাদে জেডি ভ্যান্স, বরফ কি গলবে?

ইসলামাবাদ/ওয়াশিংটন: দীর্ঘ কয়েক দশকের বৈরিতা কাটিয়ে এক ঐতিহাসিক কূটনৈতিক মোড় নিতে চলেছে আমেরিকা ও ইরান সম্পর্ক। শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে চলেছেন মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স। ১৯৭৯ সালের পর ভ্যান্সই হতে চলেছেন সর্বোচ্চ পদমর্যাদার কোনো মার্কিন কর্মকর্তা, যিনি সরাসরি ইরানি নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসছেন।

ভ্যান্সের হুঁশিয়ারি ও ইতিবাচক বার্তা: এয়ার ফোর্স টু-তে ওঠার আগে রানওয়েতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জেডি ভ্যান্স জানান, মার্কিন প্রশাসন এই আলোচনার বিষয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইরান যদি আন্তরিক হয়, তবে আমরা বন্ধুত্বের হাত বাড়াতে প্রস্তুত। কিন্তু আলোচনার নামে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করলে আমাদের আলোচক দল কঠোর অবস্থান নিতে দ্বিতীয়বার ভাববে না।”

ইরানের দুই কঠিন শর্ত: অন্যদিকে, আলোচনার আগেই জল ঢেলে দিয়েছেন ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ। এক্স-এ (টুইটার) একটি পোস্টে তিনি সাফ জানিয়েছেন, টেবিল টক শুরু হওয়ার আগে ওয়াশিংটনকে দুটি শর্ত মানতেই হবে: ১. লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা। ২. আমেরিকায় আটকে থাকা ইরানের সমস্ত বিদেশি সম্পদ মুক্তি দেওয়া।

প্রেক্ষাপট যখন উত্তাল: গত কয়েক বছরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। ২০২৫ সালে ইসরায়েলের হাতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে খামেনি হত্যার পর এই প্রথম কোনো উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হতে যাচ্ছে। এর আগে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ পরোক্ষ আলোচনা চালিয়েছিলেন, তবে এবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা।

বিশ্ব রাজনীতির বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এই আলোচনা সফল হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ কেটে যেতে পারে। কিন্তু গালিবফের এই নতুন শর্ত এবং ওয়াশিংটনের অনমনীয় মনোভাব শেষ পর্যন্ত আলোচনার পরিবেশ কতটা বজায় রাখতে দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy