কথায় বলে, ‘দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা দিতে হয়’। কিন্তু আমরা কজন সত্যিই তা মেনে চলি? দিনশেষে এক মিনিটের ব্রাশ আর কুলি কুচি—ব্যস, আমাদের দাঁতের যত্ন ওই পর্যন্তই। চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, দাঁতের ছোটখাটো সমস্যাকে অবহেলা করা মানে আসলে বড় কোনো শারীরিক বিপর্যয়কে আমন্ত্রণ জানানো। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মুখের স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে তার প্রভাব সরাসরি হৃদযন্ত্র বা হার্টের ওপরও পড়তে পারে।
কেন বিপদের মুখে আপনার হাসি?
আমরা অনেকেই মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বা দাঁতে হালকা কনকনানিকে গুরুত্ব দিই না। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি হতে পারে ‘পিরিওডন্টাইটিস’-এর লক্ষণ। মুখগহ্বরের ব্যাকটেরিয়া কেবল দাঁত নয়, রক্তস্রোতের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে ধমনীর ক্ষতি করতে পারে। তাই দাঁতের ব্যথার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে এর সুদূরপ্রসারী ফল।
যে ৫টি লক্ষণ দেখলে সাবধান হবেন:
মাড়ি ফোলা বা রক্তপাত: ব্রাশ করার সময় রক্ত আসা মোটেও স্বাভাবিক নয়।
মুখে দুর্গন্ধ: বার বার মুখ পরিষ্কার করার পরও গন্ধ না গেলে বুঝবেন ইনফেকশন হয়েছে।
দাঁত শিরশিরানি: ঠান্ডা বা গরম খাবারে অস্বস্তি হওয়া এনামেল ক্ষয়ের লক্ষণ।
দাঁতের ফাঁক বেড়ে যাওয়া: মাড়ি আলগা হয়ে গেলে দাঁত নড়তে শুরু করতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা: ওষুধ খেয়ে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করা মানে রোগটিকে আরও গভীরে নিয়ে যাওয়া।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: যা আপনার করা উচিত
ডেন্টিস্টদের মতে: “প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে ব্রাশ করা বাধ্যতামূলক। কারণ সারারাত মুখে জমে থাকা শর্করা বা খাবার দাঁতের এনামেল দ্রুত নষ্ট করে দেয়। প্রতি ৬ মাস অন্তর এক জন বিশেষজ্ঞ ডেন্টিস্টকে দিয়ে চেক-আপ করানো জরুরি, কারণ দাঁতের ক্ষয় শুরুতে ধরা পড়লে বড় অপারেশন বা দাঁত তুলে ফেলার যন্ত্রণা এড়ানো সম্ভব।”
আপনার করণীয়:
১. কেবল ওপর-নিচ নয়, দাঁতের ভেতরের অংশও ব্রাশ করুন।
২. ফ্লস ব্যবহার করুন যাতে দাঁতের মাঝখানে খাবার না জমে।
৩. বেশি মিষ্টি বা সোডা জাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলুন।
মনে রাখবেন, সুন্দর হাসি কেবল আত্মবিশ্বাস বাড়ায় না, এটি আপনার সুস্থ শরীরেরও দর্পণ। আজই সতর্ক হোন, নয়তো ভবিষ্যতে পস্তাতে হতে পারে!





