ভারতের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি খড়গপুর (IIT Kharagpur) উচ্চতর গবেষণার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল। মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের গবেষণায় উৎসাহিত করতে এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ভারতের মাটিতেই নিশ্চিত করতে শুরু করা হয়েছে এক বিশেষ পিএইচডি ফেলোশিপ। যেখানে নির্বাচিত গবেষকরা প্রতি মাসে ৮০,০০০ থেকে ৯০,০০০ টাকা পর্যন্ত স্টাইপেন্ড বা আর্থিক সাহায্য পেতে পারেন।
ফেলোশিপের মূল আকর্ষণ: সাধারণত ভারতে পিএইচডি স্তরে যে পরিমাণ ফেলোশিপ দেওয়া হয়, আইআইটি খড়গপুরের এই নতুন প্রকল্প তার চেয়ে অনেকটাই বেশি। প্রযুক্তি, বিজ্ঞান এবং গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা উদ্ভাবনী কাজ করতে আগ্রহী, মূলত তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ স্কিম চালু করা হয়েছে।
কারা পাবেন এই সুযোগ? (Eligibility Criteria):
যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী আইআইটি বা সমমানের প্রথম সারির প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চতর মেধা নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
যাঁদের গেট (GATE) বা নেট (NET) পরীক্ষায় অত্যন্ত ভালো র্যাঙ্ক রয়েছে।
যারা ইঞ্জিনিয়ারিং, টেকনোলজি এবং বিজ্ঞানের নির্দিষ্ট কিছু জটিল বিষয়ে মৌলিক গবেষণা (Core Research) করতে আগ্রহী।
আর্থিক সহায়তা ও মেয়াদ: প্রাথমিক পর্যায়ের প্রথম দুই বছর গবেষকরা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাতা পাবেন এবং গবেষণার অগ্রগতির ভিত্তিতে তৃতীয় বছর থেকে ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে ৯০,০০০ টাকা পর্যন্ত করা হতে পারে। এছাড়া গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি সুবিধা এবং আনুষঙ্গিক খরচের জন্য অতিরিক্ত ‘কনটিনজেন্সি গ্রান্ট’ (Contingency Grant)-ও দেওয়া হবে।
কেন এই উদ্যোগ? আইআইটি খড়গপুর কর্তৃপক্ষের মতে, ভারতের মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা অনেক সময়ই ভালো ফেলোশিপের আশায় বিদেশে পাড়ি দেন। এই ব্রেইন ড্রেন (Brain Drain) আটকাতে এবং দেশের মাটিতেই বিশ্বমানের আবিষ্কার সম্ভব করতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। ২০২৬-এর এই নয়া শিক্ষাবর্ষ থেকেই এই ফেলোশিপের সুবিধা পাওয়া যাবে।
আবেদন করবেন কীভাবে? আগ্রহী প্রার্থীদের আইআইটি খড়গপুরের অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে পিএইচডি অ্যাডমিশন সেকশনে আবেদন করতে হবে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য সংস্থার ওয়েবসাইট নিয়মিত নজরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।





