“৯ তারিখই এসেছিল রত্ন, ৯ তারিখই কাড়ল পৃথিবী!” মনোনয়ন জমার আগে কান্নায় ভাঙলেন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘অভয়া’-র ন্যায়বিচারের প্রসঙ্গ। আর এই আবহে বীরভূমের মাটি থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেন আর জি কর কাণ্ডে মৃত চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ। ৯ই এপ্রিল তাঁর কাছে কেবল একটি তারিখ নয়, বরং এক জীবনের পরম প্রাপ্তি এবং হারানোর বিষাদঘন অধ্যায়।

মনোনয়ন জমার আগে হাহাকার: এদিন জেলাশাসকের দফতরে মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রত্না দেবনাথ বলেন, “৯ তারিখ আমার কাছে একটা রত্ন এসেছিল। তাকে যখন পেয়েছিলাম, ভেবেছিলাম গোটা পৃথিবীটাকে আমি পেয়েছি। কিন্তু নিষ্ঠুর নিয়তি সেই ৯ তারিখেই আমার কোল থেকে আমার পৃথিবীটাকে কেড়ে নিল।” মেয়ের জন্মের তারিখ এবং তাঁর চলে যাওয়ার দিনটির এই অদ্ভুত সমাপতন নিয়ে বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

লড়াই যখন বিচারের দাবিতে: সাধারণ গৃহবধূ থেকে রাজনৈতিক ময়দানে আসার নেপথ্যে মেয়ের বিচার পাওয়ার জেদকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি। বীরভূমের বিজেপি প্রার্থী হিসেবে তাঁর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও। রত্না দেবনাথের সাফ কথা, “আমি কোনো নেত্রী হিসেবে নয়, একজন সন্তানহারা মা হিসেবে লড়ছি। বিধানসভায় গিয়ে আমি শুধু আমার মেয়ের নয়, বাংলার প্রতিটি মেয়ের সুরক্ষার কথা বলতে চাই।”

রাজনৈতিক সমীকরণ: ২০২৪-এর সেই অভিশপ্ত অগাস্ট মাসের স্মৃতি আজও বাংলার মানুষের মনে টাটকা। বীরভূমের নির্বাচনী ময়দানে রত্না দেবনাথের এই আবেগঘন বক্তব্য শাসক শিবিরের অস্বস্তি বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিজেপি নেতৃত্ব এই ‘মায়ের লড়াই’-কে ঢাল করেই নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে তৃণমূলকে কোণঠাসা করার কৌশল নিয়েছে।

জনগণের আবেগ: সিউড়ির রাজপথে রত্না দেবনাথকে দেখতে এদিন ভিড় জমিয়েছিলেন সাধারণ মানুষ। অনেকের চোখেই ছিল জল। তাঁদের মতে, ভোট যে পক্ষেই যাক না কেন, একজন মায়ের এই হাহাকার বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক করুণ দলিল হয়ে থাকবে।

বিকেল গড়াতেই যখন তিনি মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন, তখন তাঁর পাশে ছিলেন শয়ে শয়ে ‘অভয়া’ আন্দোলনের সমর্থক। ২০২৬-এর বৈতরণী পার হতে এই আবেগ কতটা সাহায্য করে, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy