“কাউকে বললে মেরে ফেলব!” খুদে তিরন্দাজকে ধর্ষণের অভিযোগ কোচের বিরুদ্ধে, হাড়হিম করা অত্যাচারে স্তম্ভিত ক্রীড়ামহল

খেলার মাঠের পবিত্রতা কালিমালিপ্ত হলো এক ঘৃণ্য অপরাধে। এক নাবালিকা তিরন্দাজকে (Archery) ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো তার নিজের কোচকেই। কাউকে এই কথা জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে দিনের পর দিন ওই ছাত্রীর ওপর অত্যাচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। নির্যাতিতার জবানবন্দি এবং পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত কোচকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ঘটনার বিবরণ ও হুমকি: অভিযোগ অনুযায়ী, প্রশিক্ষণের আড়ালে বেশ কিছুদিন ধরেই ওই নাবালিকা ছাত্রীর ওপর শারীরিক নিগ্রহ চালাতেন ওই কোচ। অসহায় ছাত্রী যাতে মুখ না খোলে, তার জন্য তাকে নিয়মিত ভয় দেখানো হতো। কোচ তাকে হুমকি দিয়ে বলতেন, “যদি কাউকে এই ঘটনা বলিস, তবে তোকে প্রাণে মেরে ফেলব।” খুনের ভয়ে এবং মানসিক যন্ত্রণায় দীর্ঘদিন বিষয়টি চেপে রেখেছিল ওই নাবালিকা।

সাহস করে রুখে দাঁড়ানো: দীর্ঘদিন চুপ থাকার পর শেষ পর্যন্ত অসহ্য যন্ত্রণায় ভেঙে পড়ে ওই ছাত্রী। অবশেষে সাহস সঞ্চয় করে বাবার কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে সে। মেয়ের কথা শুনে আকাশ থেকে পড়েন অভিভাবকরা। এরপর দেরি না করে তড়িঘড়ি বাবার সঙ্গে থানায় গিয়ে নিজের গোপন জবানবন্দি দেয় নির্যাতিতা নাবালিকা।

পুলিশি পদক্ষেপ: নাবালিকার অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। পকসো (POCSO) আইনের অধীনে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে অভিযুক্ত তিরন্দাজি কোচকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ছাত্রীর শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তে যৌন নিগ্রহের প্রমাণ মিলেছে। এই ঘটনায় অন্য কোনো সহযোগী ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ক্রীড়ামহলে তীব্র নিন্দা: একজন গুরুর আসনে বসে এমন জঘন্য কাজ করায় তীব্র ধিক্কার জানিয়েছেন ক্রীড়া জগতের বিশিষ্টরা। খেলার মাঠে নাবালিকা বা মহিলা অ্যাথলিটদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। অভিযুক্ত কোচের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় মানুষ ও অন্য ক্রীড়াবিদদের অভিভাবকরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy