অ-বিজেপি রাজ্যে কি বেছে বেছে অফিসার বদলি? নির্বাচন কমিশনের নিশানায় বাংলা-কেরল, তুঙ্গে বিরোধী ক্ষোভ!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলা, কেরালা ও পুদুচেরির মতো অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। নির্বাচন কমিশন (ECI) সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলের একাধিক শীর্ষ আমলা ও পুলিশ আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে। আর এই পদক্ষেপকে ঘিরেই বিরোধীরা ‘পরিকল্পিত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ’-এর অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে।

বিরোধীদের প্রধান অভিযোগসমূহ: তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং বামেদের পক্ষ থেকে এই রদবদল নিয়ে যে প্রশ্নগুলো তোলা হয়েছে, তা হলো:

  • বেছে বেছে বদলি: সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন— কেন কেবল অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যেই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর রাতারাতি ডিভিপি (DGP) বা মুখ্যসচিব বদল করা হয়? বিজেপি শাসিত রাজ্যে এমন তৎপরতা কেন দেখা যায় না?

  • প্রশাসনিক কাজে বিঘ্ন: বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, অভিজ্ঞ ৫০ জনেরও বেশি আধিকারিককে সরিয়ে দিয়ে সরকার চালানোর পথে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তৃণমূলের অভিযোগ, কমিশন নিরপেক্ষ না থেকে বিজেপির ‘বর্ধিত হাত’ হিসেবে কাজ করছে।

  • সংবিধানিক প্রশ্ন: তৃণমূল ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, নির্বাচিত সরকারকে অন্ধকারে রেখে কমিশন কি এইভাবে শীর্ষ আধিকারিকদের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় বদলি করার একচ্ছত্র ক্ষমতা রাখে?

নির্বাচন কমিশনের অবস্থান: তবে নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, ‘অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন’ (Free and Fair Election) সুনিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত। নিয়ম অনুযায়ী, যে আধিকারিকরা নির্দিষ্ট সময়ের বেশি এক জেলায় আছেন বা যাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কেবল তাদেরই নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিজেপির পাল্টা যুক্তি: রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতাদের দাবি, প্রশাসনের ওপর তৃণমূলের ‘রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ’ খর্ব করতেই এই পদক্ষেপ জরুরি ছিল। মেদিনীপুর থেকে শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করে বলেন, “ভোট করাবে পুলিশ নয়, মানুষ। আর কমিশন কেবল সেই পরিবেশ তৈরি করছে। যারা ভয় পাচ্ছেন, তাঁরাই হারার ভয়ে অভিযোগ করছেন।”

বর্তমান পরিস্থিতি: কেরালা ও পুদুচেরিতেও ভোট আসন্ন। সেখানেও বিরোধী জোটগুলো একই সুরে দিল্লির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে। বিশেষ করে কেরলে পুলিশি রদবদল নিয়ে সরব হয়েছে বামফ্রন্ট।

২০২৬-এর এই মহারণে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে—রাজ্য না কমিশন—সেই আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই এখন তুঙ্গে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy