দিনটা ছিল ২০২৪-এর ৯ আগস্ট। আরজি কর হাসপাতালে নারকীয় ঘটনার শিকার হয়েছিলেন তরুণী চিকিৎসক ‘অভয়া’। আর ২০২৬-এর এই ৯ এপ্রিল, সেই শোককে শক্তিতে বদলে পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেন তাঁর মা রত্না দেবনাথ। মনোনয়ণ জমা দেওয়ার সময় তাঁর পাশে থেকে সাহস জোগালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি।
৯ তারিখের সেই ট্র্যাজেডি ও নতুন লড়াই মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন রত্না দেবী। তিনি বলেন:
“৯ তারিখ আমার কাছে একটা রত্ন এসেছিল (মেয়ের জন্ম)। ভেবেছিলাম গোটা পৃথিবীটাকে পেয়েছি। কিন্তু সেই ৯ তারিখেই (৯ আগস্ট) আমার কাছ থেকে আমার পৃথিবীকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আজ সেই ৯ তারিখটাকেই আমি বেছে নিয়েছি এক কঠিন লড়াইয়ের জন্য।”
নিশানায় ‘থ্রেট কালচার’: রাজনীতির আঙিনায় পা দিয়ে রত্না দেবনাথের লক্ষ্য স্পষ্ট। তিনি সাফ জানান, তাঁর লড়াই শুধু মেয়ের বিচার পাওয়ার জন্য নয়, বরং রাজ্যের ‘থ্রেট কালচার’ ভাঙার জন্য। নাম না করে শাসকদলের নেতা নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে-দের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি বলেন, “এরা একটা থ্রেট কালচারে পরিণত করে রেখেছে। এই ভয়মুক্ত সমাজ গড়াই আমার লক্ষ্য।”
আরজি কর কাণ্ডে হাইকোর্টের নতুন মোড়: রত্না দেবনাথ যেদিন মনোনয়ন জমা দিলেন, ঠিক সেই দিনই কলকাতা হাইকোর্ট এক তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা জানিয়েছেন:
সঞ্জয় রায়কে জেরা: সিবিআই চাইলে সাজাপ্রাপ্ত সঞ্জয় রায়কে ফের জেরা করতে পারবে। আদালতের ধারণা, সে অনেক গোপন তথ্য জানে।
অন্যান্য সন্দেহভাজন: প্রয়োজনে অন্য সন্দেহভাজনদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে সিবিআই। তদন্তের স্বার্থে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ডিএনএ প্রোফাইল: পরিবারের দেওয়া ডিএনএ প্রোফাইল ও অডিও রেকর্ডিং খতিয়ে দেখে ১২ মে রিপোর্ট জমা দেবে সিবিআই।
পানিহাটির ত্রিমুখী লড়াই: বিজেপি প্রার্থী হিসেবে রত্না দেবনাথের লড়াই এবার বেশ কঠিন। তাঁর বিরুদ্ধে ময়দানে রয়েছেন তৃণমূলের তীর্থঙ্কর ঘোষ এবং সিপিএমের কলতান দাশগুপ্ত। আরজি করের ঘটনার ক্ষত এখনও তাজা সাধারণ মানুষের মনে, আর সেই আবেগকে সঙ্গী করেই আজ জনজোয়ারের মাঝে লড়াই শুরু করলেন অভয়ার মা।





